দ্য ওয়াল ব্যুরো : একসময় বিশ্বের ষষ্ঠ ধনীতম ব্যক্তি ছিলেন শিল্পপতি অনিল অম্বানী। একসময় তিনটি চিনা ব্যাঙ্কের কাছে তিনি ধার করেন ৭১ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার। অর্থাৎ ৫২৭৬ কোটি টাকা। সেই ঋণ শোধ না করতে পারায় ব্রিটেনের কোর্টে মামলা করেছিল তিনটি ব্যাঙ্ক। গত ২২ মে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অনিল অম্বানীকে ৫২৭৬ কোটি টাকা শোধ করতে হবে। এছাড়া মামলা করতে ব্যাঙ্কগুলি যে খরচ হয়েছে, মিটিয়ে দিতে হবে তাও। গত শুক্রবার তিনটি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ঋণ ও মামলার খরচ আদায় করার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তে অনিল অম্বানীর যে সম্পত্তি আছে তা বাজেয়াপ্ত করা শুরু করবে।
অনিল অম্বানী যে তিনটি ব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, তাদের নাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক অব চায়না, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক অব চায়না এবং চায়না ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। তিনটি ব্যাঙ্কের হয়ে ব্রিটেনের কমার্শিয়াল কোর্টে সওয়াল করেন বানকিম থানকি। তিনি শুক্রবার আদালতে বলেন, তিনটি ব্যাঙ্ককে যাতে ঋণ শোধ না করতে হয়, সেজন্য অনিল অম্বানী যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। শুক্রবারের শুনানির পরে ব্যাঙ্কগুলি বিবৃতি দিয়ে বলে, অনিল অম্বানীর থেকে ঋণের অর্থ উদ্ধারের জন্য তারা সবরকম আইনি পন্থার আশ্রয় নেবে।
একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, চিনা ব্যাঙ্কগুলি এখন ভারতে অনিল অম্বানীর কোনও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে না। কারণ এদেশে অনিলকে দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। অনিল অম্বানী ব্রিটেনের কোর্টকে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন, বিদেশে কোথায় তাঁর সম্পত্তি আছে। সেই হলফনামা অনুযায়ী বিদেশের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে তিনটি চিনা ব্যাঙ্ক।
গত ২৯ জুন ভারতে হাইকোর্ট অনিলকে নির্দেশ দেয়, বিশ্বের যে যে দেশে তাঁর ১ লক্ষ ডলার বা ৭৪ লক্ষ টাকার বেশি সম্পত্তি আছে, তা হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। এছাড়া তাঁর আয় ও ব্যয়ের হিসাব, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, শেয়ার সার্টিফিকেট, ব্যবসার ব্যালেন্স শিট, তিনি কোনও ট্রাস্টের সদস্য হলে তার নাম ইত্যাদি জানাতে বলা হয়। সেই সঙ্গে তাঁকে বলা হয়, ভিডিও লিঙ্ক মারফৎ শুনানিতে অংশ নিতে হবে। হলফ করে সব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
আদালতে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে অনিল আবেদন করেছিলেন, তাঁর ব্যবসার নথিপত্র যেন তৃতীয় পক্ষ দেখতে না পায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।