দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তী প্রধান হিসাবে নাগেশ্বর রাওকে নিয়োগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিল এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। সিবিআইয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর অলোক বর্মাকে সরানোর পরে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটি বেছে নেবে, ওই শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার পরবর্তী প্রধান কে হবেন? প্রধান বিচারপতি সেই কমিটির সদস্য। সেজন্যই তিনি নাগেশ্বর রাওয়ের নিয়োগের বিরুদ্ধে শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
গত বছর সিবিআই প্রধান অলোক বর্মা এবং স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা পরস্পর বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। তাঁরা পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। দুই শীর্ষ পদাধিকারীর দ্বন্দ্বে গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে ভেবে গত অক্টোবর মাসে সরকার দু’জনকেই ছুটিতে যেতে বলে। বর্মার জায়গায় সিবিআইয়ের অস্থায়ী প্রধান নিযুক্ত হন এম নাগেশ্বর রাও।
বাধ্যতামূলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে দু’জনেই আদালতে যান। জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট অলোক বর্মাকে নিজের পদে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু তার দু’দিনের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাঁকে ফের সরিয়ে দেয়। সেই জায়গায় পুনরায় নিযুক্ত হন নাগেশ্বর রাও।
তাঁর নিয়োগের বিরুদ্ধে যে সংগঠনটি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে, তার নাম ‘কমন কজ’। সংগঠনের হয়ে আদালতে আর্জি জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ। তাঁদের অভিযোগ, নাগেশ্বর রাওয়ের নিয়োগ বেআইনি, একতরফা, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দিল্লি পুলিশ স্পেশ্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্টের বিরোধী। এই আর্জি নিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
নাগেশ্বর রাও ওড়িশা ক্যাডারের ১৯৮৬ সালের ব্যাচের আইপিএস। ২৩ অক্টোবর রাত দু’টোর সময় তিনি প্রথমবার সিবিআইয়ের কার্যনির্বাহী প্রধান হন। তার পরেই তিনি বর্মার নানা নির্দেশ বাতিল করে দেন। বেশ কয়েকজনকে বদলি করেন। বদলি হওয়া অফিসারদের কেউ কেউ বর্মার নির্দেশে আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন বলে অভিযোগ।
জানুয়ারিতে বর্মা ফের সিবিআই প্রধান পদে এসে বদলির নির্দেশ বাতিল করে দেন। পরে তাঁকে দমকল দফতরে বদলি করে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি বলে, সি বি আই প্রধান হিসাবে তাঁর থেকে যে সততা আশা করা গিয়েছিল, তিনি তা দেখাননি।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইস্তফা দেন বর্মা। সাধারণভাবে আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁর অবসর নেওয়ার কথা ছিল।