দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার সন্ধ্যায় সকলকে চমকে দিয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ঘোষণা করল, পাঞ্জাবের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন চরণজিৎ সিং চান্নি (Charajnit Singh Channi)। তিনি রামদাসিয়া শিখ সম্প্রদায়ের সদস্য। কংগ্রেসের দলিত নেতা চান্নি চামকাউর সাহিব কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৫-১৬ সালে তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ছিলেন।
২০১৭ সালে ৪৭ বছর বয়সে চান্নি পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-এর মন্ত্রিসভায় স্থান পান। তাঁকে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতপাতের অঙ্কেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিয়েছে হাইকম্যান্ড।
একসময় পাঞ্জাবের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সুনীল জাখরের নাম বিবেচনা করে হাইকম্যান্ড। তিনি হিন্দু জাঠ নেতা। পাঞ্জাবে হিন্দু ভোট আছে ৩৮ শতাংশ। সেদিকে নজর রেখেই তাঁর কথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ভাবা হয়। পরে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী অম্বিকা সোনিকেও ওই পদে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। সেই সঙ্গে বলেন, কোনও শিখ ধর্মাবলম্বী যদি মুখ্যমন্ত্রী না হন তাহলে ভোটে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
পাঞ্জাবে শিখ ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৬২ শতাংশের বেশি। ১৯৬৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠনের পরে কোনও হিন্দু সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হননি। চান্নির আগে হাইকম্যান্ড যাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদে বিবেচনা করেছিল, তিনি হলেন তিনবারের বিধায়ক সুখজিন্দর সিং রণধাওয়া। তিনি মাঝা অঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা। একসময় অমরিন্দর সিং-এর অনুগামী ছিলেন। পরে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধুর পক্ষ নেন। তিনি জাঠ শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ।
পাঞ্জাবে মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই দলিত। তাঁদের ভোটের দিকে নজর রেখেছে অনেকেই। কৃষি আইন নিয়ে অকালি দলের সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পরে পাঞ্জাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বিজেপি। তারা এখন দলিত ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি নিচ্ছে। দল ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে কোনও দলিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী। অকালি দল এবং আপ ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে অন্তত উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হবে কোনও দলিতকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাদের ওপরে টেক্কা দেওয়ার জন্যই ভোটের আগে এক দলিতকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসাল কংগ্রেস।
সম্প্রতি পাঞ্জাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু অভিযোগ করেছিলেন, কৃষকদের থেকে বিদ্যুতের বেশি দাম নিচ্ছে পাঞ্জাব সরকার। এছাড়া ধর্মের অবমাননার মামলাতেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেননি ক্যাপটেন। শনিবার পদত্যাগ করার আগে সনিয়াকে একটি চিঠি লেখেন অমরিন্দর। তাতে প্রতিটি অভিযোগেরই জবাব দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা।