দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে বিরাট ট্র্যাক্টর মিছিল বার করতে চান কৃষকরা। সুপ্রিম কোর্ট যাতে সেই মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, সেজন্য আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লি সীমান্তে অবস্থানরত কৃষকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সরকার তাঁদের দাবি মেনে না নিলে ২৬ জানুয়ারি ট্র্যাক্টর মিছিল বার করবেন। ওইদিন হরিয়ানাতেও কৃষকরা ট্র্যাক্টর মিছিল বার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম থেকে একটি করে ট্র্যাক্টর আনতে বলা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা আশা করছেন, ২৬ জানুয়ারি ২০ হাজার ট্র্যাক্টর নিয়ে মিছিল করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে, ২৩ তারিখে দিল্লিতে কুচকাওয়াজের রিহার্সাল হবে। ২৮ জানুয়ারি শহরে শোভাযাত্রা করবে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর। ২৯ জানুয়ারি হবে বিটিং দ্য রিট্রিট। ৩০ জানুয়ারি পালিত হবে 'শহিদ দিবস'। এই অনুষ্ঠানগুলিতে বিঘ্ন ঘটলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি তো হবেই, সেই সঙ্গে সারা দেশই অস্বস্তিতে পড়বে।
কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, কৃষি আইন নিয়ে তাড়াহুড়ো করা হয়নি। দুই দশক ধরে আলোচনার পরে ওই আইন করা হয়েছে। দেশের কৃষকরা ওই আইনে খুশি হয়েছেন। এর ফলে তাঁরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে মোদী সরকার চেষ্টা করছে যাতে কৃষকদের মধ্যে থেকে ওই আইন নিয়ে ভুল ধারণা দূর করা যায়।
সোমবার কৃষি আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি সরকারকে বলে, "আপনারা কি আইনগুলির প্রয়োগ এখন স্থগিত রাখবেন, নাকি আমাদের নির্দেশ দিতে হবে? এই নিয়ে এত অহংকার কীসের?" বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়ে উঠছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, খারাপ কিছু ঘটে গেলে সকলকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁর কথায়, "যদি কোনও ভুল হয়ে যায়, আমাদের সকলকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা চাই না কেউ আহত হোক। তাহলে আমাদের হাতেও রক্ত লাগবে।" একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনটি বিতর্কিত আইনের ওপরে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁরা এখন যেখানে অবস্থান করছেন, ভবিষ্যতেও সেখানেই করবেন নাকি অন্য জায়গায় সরে যাবেন।
গত ৭ জানুয়ারি অষ্টমবারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কৃষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। তখনই কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর স্পষ্ট বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কৃষি আইন বাতিল করবে না। কৃষক ইউনিয়নগুলি ইচ্ছা করলে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে।
আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। তার আগে এদিন প্রধান বিচারপতির মন্তব্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, কৃষক নেতাদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেন, পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে একটা সমঝোতায় আসার জন্য সরকারকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় শীর্ষ আদালত।