দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস নাকি ‘ব্রেন ফিভার’ সেই নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশে। গত এক সপ্তাহে হু হু করে বেড়েছে শিশু মৃত্যু। বেসরকারি সূত্র বলছে এনসেফেলাইটিসের প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠছে এই রাজ্যগুলিতে। অন্যদিকে, সরকারি সূত্র বলছে এনসেফেলাইটিস নয়, বরং এই মৃত্যুর কারণ রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া (লো-ব্লাগ সুগার লেভেল), যার কারণে ব্রেন ডেথ এবং মৃত্যু। আর এই মস্তিষ্কের রোগের কারণ লিচু থেকে নির্গত টক্সিন।
বিহারে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ যার মধ্যে ৭০ শতাংশই কিশোর বা কিশোরী। শিশুও রয়েছে। বলা হচ্ছে, এনসেফেলাইটিসের প্রভাবেই মৃত্যু হয়েছে এই শিশুদের। মুজফ্ফরপুর জেলা প্রশাসনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোম (এইএস) সন্দেহে মোট ১৭৯ জনকে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে। ২০১৩ সালে উত্তরপ্রদেশে এনসেফেলাইটিসের হানায় মৃত্যু হয়েছিল ৩৫১ জনের।
বিহার স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তা সঞ্জয় কুমারের দাবি, “চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে অসংখ্য শিশু ও মহিলাকে।”স্বাস্থ্য দফতর যদিও এনসেফেলাইটিসের তত্ত্ব মানতে রাজি নয়। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, বিহারের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে গরমের সময় যথেচ্ছ ভাবে লিচু খায় বাচ্চারা। এই লিচু থেকে নির্গত টক্সিনই রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার ঘটনাকে বলা হয়, ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’। রক্তে সোডিয়াম বা পটাসিয়ামের মতো ধাতব মৌলের পরিমাণ কমে গেলেও হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হন রোগী।
স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা সঞ্জীব কুমারের কথায়, বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন গরমের সময়তেই লিচু থেকে ওই বিশেষ টক্সিন বার হয়। যেটা শিশুদের লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাঁর মতে, মুজফ্ফরপুরে ব্যাপক হারে লিচু চাষ হয়। তাই এই টক্সিনের কারণেই মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গরমের প্রভাব কমে গেলে এই রোগের হানাও কমে যায় আশ্চর্যজনক ভাবে, কারণ তাপমাত্রা কমলে লিচুতে আর ওই বিশেষ টক্সিন তৈরি হয় না।
বিহার, উত্তরপ্রদেশের হাসপাতাল গুলিতে গিয়ে এই রোগের কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল টিমের সদস্যরাও। জানা গেছে, কয়েকটি শিশুর মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সেখানেও লিচু থেকে বেরোনো টক্সিনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এই সব সিশুরা বেশিরভাগই অপুষ্টির শিকার, তার উপর টক্সিনের প্রভাবে লিভার ও মস্তিষ্কের কোষ কাজ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, লিভার বা যকৃত গ্লাইকোজেন সঞ্চয় করে রাখে। রক্তে শর্করার পরিমাণ আচমকা কমে গেলে সেই গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ বা শর্করা রক্তে মিশে ব্লাড-সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু, টক্সিনের প্রভাবে লিভার কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত শর্করা রক্তে মিশতে পারে না। তার প্রভাবেই ব্রেন ডেথ নয়।