বিজেপির লক্ষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে নিয়ে যাওয়া। কর্মসূচির আওতায় থাকবে ৬০টি বড় জনসভা এবং আনুমানিক ৩০০টি ছোট সভা। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে ট্যাবলো বের করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 February 2026 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে শুক্রবার নিজেদের বিরাট কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আনল বিজেপি (BJP West Bengal)। ‘পরিবর্তন যাত্রা’র (BJP Paribartan Yatra) রূপরেখা ব্যাখ্যা করা হল দলের তরফে। কোন দিন কারা, কোথায় থাকবেন সে বিষয়েও জানানো হয়েছে।
মোট ৯টি পৃথক যাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। ১ ও ২ মার্চ থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। প্রথম দিনে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান এবং আমতা থেকেও আরও চারটি যাত্রা বেরোবে। দোল (Holi Festival) উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছে দল।
বিজেপির তরফে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র টিজার লঞ্চ করা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১ মার্চ কোচবিহারের যাত্রায় থাকবেন নিতিন নবীন, শমীক ভট্টাচার্য এবং নিশীথ প্রামাণিক। একই দিন মেদিনীপুরে থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী, ধর্মেন্দ্র প্রধান। নদিয়াতে থাকবেন জেপি নাড্ডা, সুকান্ত মজুমদার এবং রাহুল সিনহা। আর আসানসোলে থাকবেন দিলীপ ঘোষ, স্মৃতি ইরানি এবং অন্নপূর্ণা দেবী।
২ মার্চ উত্তর দিনাজপুরে থাকছেন নিতিন নবীন এবং দিলীপ ঘোষ। মথুরাপুরে থাকবেন অমিত শাহ, সুকান্ত মজুমদার। আমতাতে থাকছেন রাজনাথ সিং, শমীক ভট্টাচার্য। সন্দেশখালিতে থাকবেন শিবরাজ সিং চৌহান, শুভেন্দু অধিকারী, শান্তনু ঠাকুর, লকেট চট্টোপাধ্যায়। আর হাসনে থাকছেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, মিঠুন চক্রবর্তী।
বিজেপির লক্ষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে নিয়ে যাওয়া। কর্মসূচির আওতায় থাকবে ৬০টি বড় জনসভা এবং আনুমানিক ৩০০টি ছোট সভা। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে ট্যাবলো বের করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবারের নির্দেশে জানিয়েছে, যাত্রায় একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। ১ মার্চ থেকে ৬ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। শব্দবিধি সংক্রান্ত সমস্ত আইন কঠোরভাবে মানার কথাও জানানো হয়েছে।
বক্তব্য নিয়েও সতর্কতা জারি করেছে আদালত। কোনও রকম কুরুচিকর বা উত্তেজনামূলক মন্তব্য করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে - এমন মন্তব্য বা কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কর্মসূচির জেরে যানজট তৈরি করা যাবে না। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। পাশাপাশি, অন্তত ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।