২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার সময় তৃণমূল কংগ্রেস শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে মনে করান বিজেপি সভাপতি। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। নিতিন নবীনের বক্তব্য, নতুন শিল্প আসেনি, বরং পুরনো কারখানাও একে একে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

নিতিন নবীন
শেষ আপডেট: 28 January 2026 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP President) হওয়ার পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এসে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বার্তা দিলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। বুধবার দুর্গাপুরে এক জনসভা থেকে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) নিশানা করেন তিনি। শিল্প, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি ও নারী নিরাপত্তা - একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা শোনা যায় বিজেপি সভাপতির বক্তব্যে।
দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলের কথা তুলে ধরে নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, এক সময় এই শহরে একের পর এক কারখানা ছিল। আজ সেই চিত্র বদলে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিল্পের অভাবে এখানকার যুবকদের ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দিতে হচ্ছে। রাজ্যে শিল্পনীতির ব্যর্থতাই এর মূল কারণ বলে দাবি করেন তিনি।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার সময় তৃণমূল কংগ্রেস শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে মনে করান বিজেপি সভাপতি। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। নিতিন নবীনের বক্তব্য, নতুন শিল্প আসেনি, বরং পুরনো কারখানাও একে একে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে যদি শিল্প ও কর্মসংস্থান ফেরাতে হয়, তবে বিজেপির সরকার প্রয়োজন। নচেৎ বাংলার মানুষকে কাজের জন্য অন্য রাজ্যের উপর নির্ভর করতেই হবে।
‘নতুন কারখানা’ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে নিতিন বলেন, বাংলায় এমন এক ‘কারখানা’ তৈরি হয়েছে যেখানে শুধু দুর্নীতি (Corruption), কারচুরি আর কাটমানি চলে। তাঁর অভিযোগ, এই ব্যবস্থার সঙ্গে তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা যুক্ত। আরও দাবি করেন, সব কিছু জানা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুর্নীতির মামলায় তৃণমূলের বহু নেতা বর্তমানে জেলে বা জামিনে রয়েছেন।
নারী নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে একহাত নেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর কথায়, বাংলার মহিলাদের মানসিকতা বদলে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিতিন নবীনের দাবি, যে রাজ্যের মহিলারা একসময় দেশকে দিশা দেখিয়েছেন, তাঁদের সন্ধে সাতটার পর বাড়ির মধ্যে থাকতে বলার মতো মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, প্রথম রাজ্য সফরের প্রথম ভাষণেই বাংলার মনীষীদের স্মরণ করেন নিতিন নবীন। রাজা রামমোহন রায় থেকে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায় ও উত্তম কুমারের নাম উঠে আসে তাঁর বক্তৃতায়। বাংলার ঐতিহ্য ও অবদানের কথা স্মরণ করেই তিনি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।