Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার

অঙ্গদাতার খোঁজ দেবে, জানাবে প্রতিস্থাপনের খুঁটিনাটি! মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে ফেলেছেন বেঙ্গালুরুর প্রতীক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নজির গড়েছে দেশের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। মস্তিষ্কের মৃত্যুর পরে অঙ্গ দান এবং অন্যের দেহে তা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রিন করিডর করে অল্প সময়ে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে অঙ্গ পৌঁছে দেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়ে

অঙ্গদাতার খোঁজ দেবে, জানাবে প্রতিস্থাপনের খুঁটিনাটি! মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে ফেলেছেন বেঙ্গালুরুর প্রতীক

শেষ আপডেট: 31 July 2019 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নজির গড়েছে দেশের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। স্তিষ্কের মৃত্যুর পরে অঙ্গ দান এবং অন্যের দেহে তা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রিন করিডর করে অল্প সময়ে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে অঙ্গ পৌঁছে দেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। তবে মৃত্যপথযাত্রীর জন্য দ্রুত অঙ্গের যোগান দেওয়া বা তাঁর খোঁজ পাওয়া একান্তই কষ্টসাধ্য পদ্ধতি। অনেক সময়েই এর জন্য হয়রান হতে হয় রোগীর আত্মীয়দের। এই অসুবিধাগুলোই এ বার দূর করতে মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে ফেলেছে বেঙ্গালুরুর এক ছাত্র। প্রতীক মহাপাত্র। বেঙ্গালুরুর আরভি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের এই ছাত্র বানিয়েছেন মোবাইল অ্যাপ ‘অরগ্যান সিকিয়োর’। এই অ্যাপের মাধ্যমেই অঙ্গদাতা-সহ, প্রয়োজনীয় অঙ্গ, কাছাকাছি কোন হাসপাতালে তা মিলবে, খরচ কত, ইত্যাদি সব জরুরি তথ্য়ই এক তালিকায় দেখতে পাবেন গ্রাহকরা। মোবাইলে লোকেশন সেট করা থাকলে নির্দিষ্ট শহরের কোন কোন হাসপাতালে অঙ্গদান হচ্ছে সেটাও জানা যাবে এই অ্যাপের মাধ্যমেই। প্রতীক জানিয়েছেন, অঙ্গদানের জন্য নির্দিষ্ট আইন কানুনও গ্রাহককে জানাবে এই অ্যাপ। তা ছাড়া, রক্তের গ্রুপ, অ্যান্টিজেনের ধরন সব কিছুই জানা যাবে এর মাধ্যমে। ‘মাইক্রোসফট ২০১৯ এআই ফর গুড আইডিয়া চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগীতায় এই অ্যাপের জন্য তৃতীয় স্থান দখল করে নিয়েছেন প্রতীক। জানিয়েছেন, কোডিং-এ তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ১৪ বছর বয়স থেকেই অ্যাপ বানানোর কাজে হাত পাকিয়েছেন। মাইক্রোসফটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নতুন নয়। এর আগে মাইক্রোসফট আয়োজিত ‘বিগ ডেটা অ্যাওয়ার্ড অ্যাট ইমেজিং কাপ ২০১৮’ -তে ‘ড্রাগ সেফ’ নামে একটি অ্যাপ বানিয়ে পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন প্রতীক। তাঁর কথায়, ‘‘ওয়েব সিরিজ দেখতে গিয়েই এই অঙ্গদানের উপর অ্যাপ বানানোর আইডিয়া মাথায় আসে। আমি দেখেছি অঙ্গদাতার খোঁজ কতটা জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের খরচ ও অস্ত্রোপচারের আগে মানসিক চাপও থাকে সাঙ্ঘাতিক। আমার বানানো এই অ্যাপ রোগী ও তাঁর পরিবারকে অনেকটাই সাহায্য করবে বলে আশা রাখছি। ’’ এই অ্যাপটা এখনই গুগল প্লে-স্টোরে পাওয়া যাবে না। প্রতীক জানিয়েছেন, খুব দ্রুত এই অ্যাপটা পাবলিক করার চেষ্টা চলছে। সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতেও এই অ্যাপের অ্যাকসেস থাকবে। ‘‘অরগ্যান সিকিয়োর অনেক ভাবে সাহায্য করবে। প্রথমত, অঙ্গদানের নিয়মকানুন জানাবে, দ্বিতীয়ত, অঙ্গদাতার মেডিক্যাল হিস্ট্রি বিশদে জানাবে। গ্রাহকের শরীরে সেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যাবে কি না সেটাও স্পষ্ট করবে এই অ্যাপ।’’ সরকারি বা বেসরকারি ক্ষেত্রে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য মেলে না সহজে। অঙ্গদানের সচেতনতাও অনেক কম। অথচ মৃত্যুর পরে চোখ, যকৃত, হৃদপিণ্ডের মতো অঙ্গ দান করলে তা দিয়ে বহু মানুষ প্রাণে বাঁচতে পারেন। পরিসংখ্যান বলছে, মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়েছে, এমন কারও শরীরের নানা অঙ্গের সাহায্যে ১২টি মানুষের প্রাণ বাঁচতে পারে। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারতে দুর্ঘটনায় এক লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের মস্তিষ্কের মৃত্যু হলেও অন্যের অঙ্গ দিয়ে প্রাণ বাঁচানো গিয়েছে মাত্র ৩০০ জনের। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে প্রতি ১০ লক্ষে অঙ্গ দান করেন মাত্র ০.৫ জন। এই অ্যাপ শুধু অঙ্গদানের খুঁটিনাটি নয়, সচেতনতাও গড়ে তুলবে বলে বিশ্বাস প্রতীকের। এই অ্যাপ প্রথম চালু হতে পারে কর্নাটকে। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া ও কানাডাতে এই অ্যাপ ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতীক। তাঁর কথায়, "অঙ্গদানের মাধ্যমে এক জন বেঁচে থাকতে পারেন আটজনের শরীরে। অঙ্গদানের সচেতনতা বাড়াবে এই অ্যাপ। দিনের শেষে যদি দেখি এই অ্যাপের ৩০-৪০ শতাংশ গ্রাহক মরণোত্তর অঙ্গদানের পরিকল্পনা করে ফেলেছেন, তাহলে সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।"

```