
শেষ আপডেট: 31 July 2019 18:30
‘মাইক্রোসফট ২০১৯ এআই ফর গুড আইডিয়া চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগীতায় এই অ্যাপের জন্য তৃতীয় স্থান দখল করে নিয়েছেন প্রতীক। জানিয়েছেন, কোডিং-এ তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ১৪ বছর বয়স থেকেই অ্যাপ বানানোর কাজে হাত পাকিয়েছেন। মাইক্রোসফটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নতুন নয়। এর আগে মাইক্রোসফট আয়োজিত ‘বিগ ডেটা অ্যাওয়ার্ড অ্যাট ইমেজিং কাপ ২০১৮’ -তে ‘ড্রাগ সেফ’ নামে একটি অ্যাপ বানিয়ে পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন প্রতীক। তাঁর কথায়, ‘‘ওয়েব সিরিজ দেখতে গিয়েই এই অঙ্গদানের উপর অ্যাপ বানানোর আইডিয়া মাথায় আসে। আমি দেখেছি অঙ্গদাতার খোঁজ কতটা জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের খরচ ও অস্ত্রোপচারের আগে মানসিক চাপও থাকে সাঙ্ঘাতিক। আমার বানানো এই অ্যাপ রোগী ও তাঁর পরিবারকে অনেকটাই সাহায্য করবে বলে আশা রাখছি। ’’
এই অ্যাপটা এখনই গুগল প্লে-স্টোরে পাওয়া যাবে না। প্রতীক জানিয়েছেন, খুব দ্রুত এই অ্যাপটা পাবলিক করার চেষ্টা চলছে। সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতেও এই অ্যাপের অ্যাকসেস থাকবে। ‘‘অরগ্যান সিকিয়োর অনেক ভাবে সাহায্য করবে। প্রথমত, অঙ্গদানের নিয়মকানুন জানাবে, দ্বিতীয়ত, অঙ্গদাতার মেডিক্যাল হিস্ট্রি বিশদে জানাবে। গ্রাহকের শরীরে সেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যাবে কি না সেটাও স্পষ্ট করবে এই অ্যাপ।’’
সরকারি বা বেসরকারি ক্ষেত্রে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য মেলে না সহজে। অঙ্গদানের সচেতনতাও অনেক কম। অথচ মৃত্যুর পরে চোখ, যকৃত, হৃদপিণ্ডের মতো অঙ্গ দান করলে তা দিয়ে বহু মানুষ প্রাণে বাঁচতে পারেন। পরিসংখ্যান বলছে, মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়েছে, এমন কারও শরীরের নানা অঙ্গের সাহায্যে ১২টি মানুষের প্রাণ বাঁচতে পারে। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারতে দুর্ঘটনায় এক লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের মস্তিষ্কের মৃত্যু হলেও অন্যের অঙ্গ দিয়ে প্রাণ বাঁচানো গিয়েছে মাত্র ৩০০ জনের। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে প্রতি ১০ লক্ষে অঙ্গ দান করেন মাত্র ০.৫ জন। এই অ্যাপ শুধু অঙ্গদানের খুঁটিনাটি নয়, সচেতনতাও গড়ে তুলবে বলে বিশ্বাস প্রতীকের।
এই অ্যাপ প্রথম চালু হতে পারে কর্নাটকে। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া ও কানাডাতে এই অ্যাপ ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতীক। তাঁর কথায়, "অঙ্গদানের মাধ্যমে এক জন বেঁচে থাকতে পারেন আটজনের শরীরে। অঙ্গদানের সচেতনতা বাড়াবে এই অ্যাপ। দিনের শেষে যদি দেখি এই অ্যাপের ৩০-৪০ শতাংশ গ্রাহক মরণোত্তর অঙ্গদানের পরিকল্পনা করে ফেলেছেন, তাহলে সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।"