
শশাঙ্ক বিল দেখতে গেলেন পুরকর্তারা
শেষ আপডেট: 27 November 2024 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দ্য ওয়ালের খবরের জেরে শেষ পর্যন্ত শশাঙ্ক বিল ভরাটের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার। বুধবার দুপুরে চেয়ারম্যান সদলবলে বর্ধমান শহরের আনন্দপল্লি এলাকায় শশাঙ্ক বিল দেখতে যান। সেখানে তখন ভরাটের কাজ চলছিল।
তার কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য বিল ভরাটের খবর পেয়ে যান বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বিশ্বজিৎ ঘোষ। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় চেয়ারম্যান ও ভূমি সংস্কার আধিকারিককে। কারণ বিল ভরাটের জায়গায় বিশাল বড় টিনের গেট করা হয়েছে জিটি রোডের দিকে। যাতে বাইরে থেকে কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে।
চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, "এটা বিশাল জলা। যে সংস্থা ভরাট করছে তাদের কাছে যে কাগজ আছে তাতে এখানে হাউসিং কমপ্লেক্স তৈরির কথা বলা আছে। কিন্তু ভূমি সংস্কার দফতরে যে কাগজ আছে তাতে কিছু অংশ শালি থাকলেও বাকি অংশকে জলা বলে উল্লেখ করা আছে। তাই আমরা গোটা বিষয়টি জেলাশাসকের কাছে পাঠাব। জেলাশাসক সবার কাগজপত্র নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা মানা হবে।"
ভূমি সংস্কার আধিকারিক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, "আমি অতিরিক্ত জেলাশাসকের (ভূমি) নির্দেশে পরিদর্শনে এসেছি। আমি রিপোর্ট জমা দেব অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে। ভরাট করা খানিকটা জায়গা বিল বলে উল্লেখ আছে পরচায়।"
বেশ কয়েকদিন ধরেই বর্ধমান শহরের প্রায় ৩০০ বিঘা জমির উপর জলাভূমি শশাঙ্ক বিল ভরাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠছে। দীর্ঘদিন ধরেই একটি অসাধু চক্র সেই জলাভূমিকে ভরাট করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। কয়েকদিন ধরে রাতের অন্ধকারে আবার জলাভূমি ভরাট করার প্রয়াস শুরু হয়। জেসিবি মেশিন নিয়ে রাতে সেখানে জলাশয় ভরাটের কাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। এই জলাশয় ভরাটের বিষয়টি যাতে প্রকাশ্যে না আসে সেজন্য এলাকায় বহিরাগত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না বলেও অভিযোগ। এই নিয়ে ক্ষোভ ছড়ায় গোটা শহরে। রবিবার জলা ভরাটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে এককাট্টা হওয়ার ডাক দেয় বিজ্ঞানমঞ্চ।
এদিন সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার চিন্ময় সাহা বলেন, "আমরা কোনও বেআইনি কাজ করিনি। তবে পৌরসভার চেয়ারম্যান এখন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে।" জেলাশাসক আয়েশা রানি বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। আমি ভূমি দফতরকে বলেছি তদন্ত করতে।"