দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এবার থেকে করোনা ভ্যাকসিন নিতে পারবেন গর্ভবতী মহিলারাও। তাঁরা নিজেরা এখন কোউইন অ্যাপে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করাতে পারেন অথবা করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বাড়ির সবচেয়ে কাছের সেন্টারে ভ্যাকসিন নিতে যেতে পারেন বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মন্ত্রক।
এই সিদ্ধান্তে নীতিগত বড় বদল ঘটল কেন্দ্রের। গত মাস পর্যন্ত স্তন পান করান, এমন মহিলাদের করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার তালিকায় রাখা হলেও গর্ভবতী মহিলাদের হয়নি। সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, যেহেতু ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে গর্ভবতী মহিলাদের সামিল করা হয়নি, সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ, সুরক্ষিত, সে ব্যাপারে যথেষ্ট ডেটা নেই।
গর্ভবতী মহিলাদের ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। বলা হয়েছে, কোভিডের ক্ষেত্রে এখন বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছেন গর্ভবতী মহিলারা। সংক্রমিত হলে তাঁদের গুরুতর অসুস্থতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভাইরাসের ফলে গর্ভাবস্থায় নানা জটিলতাও দেখা দিচ্ছে। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রথম প্রথম গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে বিশেষ উপসর্গ দেখা যাবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে অসুস্থতা বাড়বে।
ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ভ্যাকসিন গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অন্যান্যদের মতোই নিরাপদ। তবে যে কোনও ওষুধের মতোই ভ্যাকসিনেরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। সেটা খুব সামান্য। হালকা জ্বর, সূঁচ ফোঁটানোর জায়গায় ব্যথা, বা দু-তিন দিনের জন্য খানিক অস্বস্তি থাকতে পারে।
এছাড়া ভ্যাকসিন নেওয়ার ২০ দিন পর গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিতে পারে কোনও কোনও ক্ষেত্রে। তবে তা ৫ লাখের মধ্যে ১ জনের হতে পারে। সেক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বিরল উপসর্গগুলি কী কী
স্বাস্থ্যমন্ত্রক গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কোভিডের বেশ কিছু বিরল উপসর্গের কথা বিবৃতিতে বলেছে। সেগুলি হল- শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, গাঁটে ব্যথা বা গাঁট ফুলে যাওয়া, পেটে ব্যথা (সঙ্গে হতে পারে বমিও), শরীরের কোনও এক অংশে দুর্বলতা বা অবশ হয়ে যাওয়া, একটানা বমি হওয়া, চোখে ব্যথা বা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে কাদের ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত নয়
এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মতোই গর্ভবতী মহিলাদের জন্যেও নির্দেশ এক। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর অ্যালার্জি হলে পরের ডোজ না নেওয়াই ভাল।
যদি সন্তানসম্ভবা মহিলার আগেই কোভিড হয়ে গিয়ে থাকে
এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরামর্শ, সংক্রমণের ১২ সপ্তাহের মধ্যে বা সেরে ওঠার ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিন না নেওয়াই উচিত। এছাড়া মনোকলোনাল অ্যান্টিবডি বা প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে যাঁদের চিকিৎসা করা হয়েছে তাঁদেরও কিছুদিন ভ্যাকসিন না নেওয়াই ভাল।
যদি কোনও মহিলার গর্ভাবস্থায় কোভিড ধরা পড়ে, সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেই তাঁকে ভ্যাকসিন নিয়ে নিতে হবে।
গর্ভবতী মহিলা ও সন্তানের জন্য কোভিড কতটা ক্ষতিকর
স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ গর্ভবতী মহিলাকেই কোভিড সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। বাড়িতেই সেরে ওঠেন তাঁরা। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের লাগাতার অবনতি ঘটতে দেখা যায়। এমনকি আইসিইউ-র প্রয়োজনও হতে পারে।
কোভিড আক্রান্ত মায়ের থেকে জন্ম নেওয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু সুস্থ থাকে। তবে এক্ষেত্রে সময়ের আগেই ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাসপাতালে ভর্তির দরকার হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে।