
শেষ আপডেট: 20 November 2024 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বন্যায় মাটির বাড়ি ভেঙে যায়। তারপর থেকে বাঁধের তাঁবুতে আড়াই মাস দিন গুজরান হয়ে গেল। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার তাঁদের কপালে আবাসের শিকে ছিঁড়তে পারে সেই আশায় দিন গুনছেন হতদরিদ্র কয়েকটি পরিবার।
বন্যার জলে ভেঙে গেছে মাটির বাড়ি।ফলে বিপাকে পড়ে যান জামালপুর ব্লকের শিয়ালী গ্রামের চারটি দরিদ্র পরিবার।দামোদর নদের বাঁধে ত্রিপলের নীচে আশ্রয় নেন তাঁরা। জানতে পেরে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে জেলাশাসক আয়েশা রানি পৌঁছলেন তাঁদের কাছে। গ্রামে ঘুরে তাঁদের ঘরবাড়ির অবস্থাও জেলাশাসক খতিয়ে দেখেন।
জামালপুর ব্লকের জ্যোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম শিয়ালী। গ্রামের গা ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। গ্রামে বসবাস করা বাসিন্দাদের মধ্যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাঁদের কেউ পেশায় খেতমজুর,আবার কেউ দিন মজুর। সারা বছর দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করেই তাঁদের দিন কাটে। এটাই জীবনের জলছবি গ্রামের আনন্দ রায়,বাসুদেব রায়, কনকলতা রায় এবং কনকলতার চার ছেলের পরিবারের। মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসাবে এই চার পরিবারেরই সম্বল ছিল ছিটে বেড়ার উপরে মাটি ধরানো বাড়ি।
আনন্দ রায়,বাসুদেব রায় ও কনকলতা রায়রা জানান,এবছর পুজোর আগে বন্যায় শিয়ালী গ্রামের দারুণ ক্ষতি হয়। কাঁচা বাড়ি থেকে শুরু করে চাষবাস সবই ক্ষতির মুখে পড়ে। বন্যার জলের তোড়ে তাঁদের কাঁচা বাড়িগুলি কার্যত কঙ্কালসার হয়ে যায়। সেই কারণে বাধ্য হয়ে তাঁরা দামোদরের বাঁধে গিয়ে ওঠেন। প্রশাসনের দেওয়া ত্রিপল দিয়ে তাঁবু বানিয়ে পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেন। কনকলতাদেবী জানান, তাঁর এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ও চার ছেলের পরিবারও তাঁদের সঙ্গেই দামোদরের বাঁধের উপরে ত্রিপলের তাঁবুতে আশ্রয় নেয়। প্রায় আড়াই মাস তাঁবুতেই তাঁদের দিন কাটছে।
আনন্দ রায় বলেন, “ছিটে বেড়ার উপর মাটি ধরানো বাড়িই ছিল আমাদের মাথা খোঁজার ঠাঁই। বন্যায় সেই বাড়িগুলি ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। ওই বাড়িতে থাকতে গেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হত।তাই প্রাণ ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছি।" তাঁরা জানান,শীত না পড়লে বাঁধের তাঁবুতেই তাঁরা থাকতেন। শীত পড়ে যাওয়ায় নদী বাঁধের তাঁবুতে বসবাস করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাঁবু ছেড়ে আবার নিজেদের ভাঙাচোরা বাড়িতেই ফিরতে বাধ্য হন।
তাঁরা জানান, আগেও তিনবার প্রশাসনের লোকজন তাঁদের বাড়ির ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবাস যোজনার পাকা বাড়ি পাওয়ার সৌভাগ্য আজও তাঁদের হয়নি। আবাস যোজনার পাকা বাড়ি মিললে তবেই নিরাপদ একট আশ্রয়ে থাকতে পারবেন তাঁরা।
এইসব দরিদ্র পরিবার গুলিকে আর যাতে চোখের জল ফেলতে না হয় তার জন্য আশার কথা শুনিয়েছেন জেলাশাসক আয়েশা রানি। তিনি বলেন ,মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে যাঁদের কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁরা আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। সেই মতোই জামালপুরের শিয়ালী গ্রাম সহ অন্য আরো যেসব গ্রামের বাসিন্দাদের কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই সব বাড়ির মালিকের নাম আমরা নিয়েছি। এখন সার্ভের কাজ চলছে। আশা করছি আবাসের পাকা বাড়ি তৈরির টাকা ওঁরা শীঘ্রই পেয়ে যাবেন।"