দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস বাকি থাকতেই পঞ্জাব কংগ্রেসের (punjab congress) অন্তর্কলহ (inner conflict) তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের (captain Amrinder Singh) গদি টলমল। তিনি আজ বিকাল চারটেয় ইস্তফা দিচ্ছেন (resignation) বলে কয়েকটি সূত্রের দাবি। দুপুর ২টায় তিনি অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকের পরই নাকি তিনি রাজ্যপালের কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র পেশ করবেন।
কংগ্রেস নেতৃত্ব বিকাল পাঁচটায় রাজ্যে পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে। তার আগেই সরছেন অমরিন্দর। বিকাল ৫টার বৈঠকে তাঁকে ডাকা হয়নি বলে খবর। অমরিন্দর অনুগামীদের নিয়ে বৈঠকে বসার আগেই নাকি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, বলেন, যেভাবে তাঁকে অপমান করা হচ্ছে, তা তিনি আর হজম করতে পারছেন না। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড নাকি দলীয় বিধায়কদের বলে দিয়েছে, অমরিন্দরের বৈঠকে যেন কেউ না যান, সবাইকে বিকাল ৫টার বৈঠকে থাকতে হবে।
শোনা যাচ্ছে, অমরিন্দর দলীয় সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কমলনাথকে ফোন করে জানান, মনেপ্রাণে তিনি একজন সাচ্চা কংগ্রেসি, ২০২২ এর বিধানসভা ভোটের আগে দলের ক্ষতি হয়, এমন কিছুই তিনি করবেন না। সনিয়াকে তিনি বলেছেন, আজ পর্যন্ত তাঁর কথায় যত রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে, তিনি সব মেনে নিয়েছেন, কিন্তু এমন ‘অপমান’ আর মানতে পারছেন না। নভজ্যোত সিং সিধুকে (navjyot singh sidhu) পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করার পর থেকেই কোণঠাসা হতে শুরু করেন ক্যাপ্টেন। একাধিক বিধায়ক, যাঁরা সিধু অনুগামী, প্রকাশ্যে বলা শুরু করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজ্য চালাতে ব্যর্থ অমরিন্দর।
শুরুটা হয়েছিল অমরিন্দর, সিধুর প্রকাশ্যে, সোস্যাল মিডিয়ায় পরস্পরকে আক্রমণের মধ্যে। সিধু হাইকম্যান্ডের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। প্রদেশ কংগ্রেসে বিবাদ মেটাতে সনিয়া কমিটিও গড়ে দেন, যাতে রাখা হয় রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে, দিল্লির প্রাক্তন এমপি জে পি আগরওয়াল, পঞ্জাবের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক হরিশ রাওয়াতকে। কমিটি একাধিকবার বৈঠকে বসে। তার মধ্যেই ক্যাপ্টেনের আপত্তি উড়িয়েই সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করেন সনিয়া। কিন্তু সিধুর তোপ উত্তরোত্তর বাড়তে থাকায় পঞ্জাব কংগ্রেসের ঘরোয়া কলহ থামেনি। ক্যাপ্টেন সরে গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, নজর এখন সেদিকেই।