
শেষ আপডেট: 6 June 2023 09:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দিন কেটে গেছে। শুক্রবার রাতে বালেশ্বরের (Balasore) বাহানগায় (Balasore train accident) যে বীভৎস দৃশ্য দেখেছে দেশবাসী তারপর শুধু কান্না আর আর্তনাদেই ভারী হয়েছে বাতাস। শয়ে শয়ে মৃতদেহ টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। বিভীষিকা কাটিয়ে ছন্দে ফিরছে জীবন। স্বাভাবিক হচ্ছে রেল চলাচলও। অন্যদিকে, ওড়িশার হাসপাতাল ও মর্গগুলিতে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। সেখানে এখনও পড়ে শয়ে শয়ে পরিচয়হীন মৃতদেহ। কয়েকটি ছাড়া বাকি দেহগুলির শণাক্তকরণই হয়নি। দেহ পচন ধরতে শুরু করেছে। দেহ শণাক্তকরণের ব্যবস্থা করছে সরকার।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ওড়িশার বিভিন্ন মর্গ ও হাসপাতালে এখনও একশোর বেশি দেহ পড়ে রয়েছে। এই দেহগুলো চিহ্নিত করা যায়নি। আপাতত পারাদ্বীপ থেকে কন্টেনার এনে দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া দেহ চিহ্নিতকরণের আর কোনও উপায় নেই।
দুর্ঘটনার পরই দেহগুলি উদ্ধার করা হলেও, এত সংখ্যক দেহ কোথায় রাখা হবে, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। শেষ অবধি দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই একটি স্কুলের ক্লাসরুমে ঠাঁই হয় মৃতদেহগুলির। কিন্তু এত গরম, তার উপরে ছিন্নভিন্ন হওয়া দেহ। পচন ধরতে খুব বেশি সময় লাগেনি। সংরক্ষণ করে রাখতেই জায়গা বদল করা হয়, চেম্বার অব কমার্স ভবনে স্থানান্তরিত করা হয় মৃতদেহ। পরে রবিবার ভুবনেশ্বরের এইমস ও কটক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় দেহগুলি।
বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে খবর, ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এখনও ১৮২ জনের শনাক্তকরণ সম্ভব হয়নি। যাদের আত্মীয়-পরিজনরা নিখোঁজ, তাদের এই হাসপাতালগুলিতে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। চালু হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর। জানা গেছে, দেহগুলির অবস্থা এতটাই খারাপ যে অধিকাংশের মুখ চেনা দায়। দেহগুলিকে শনাক্ত করার জন্য নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেই ছবি হাসপাতালের জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে।
ওড়িশার মর্গে পচছে পরিচয়হীন শতাধিক দেহ, পারাদ্বীপ থেকে বিশেষ কন্টেনার আনছে এইমস