শাহিনবাগ-আন্দোলনে প্রাণ হারাল চার মাসের ছোট্ট শিশু! তবু অবস্থানে ফিরলেন শোকার্ত মা-বাবা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাহিনবাগের প্রতিবাদ-অবস্থানে প্রাণ হারাল চার মাসের একরত্তি শিশু। দিল্লির হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় দিনের পর দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে থেকে ঠান্ডা লেগেছিল ছোট্ট শরীরে। কয়েক দিন লড়াই চলার পরে, শেষমেশ ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হল মহম্মদ জ
শেষ আপডেট: 4 February 2020 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাহিনবাগের প্রতিবাদ-অবস্থানে প্রাণ হারাল চার মাসের একরত্তি শিশু। দিল্লির হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় দিনের পর দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে থেকে ঠান্ডা লেগেছিল ছোট্ট শরীরে। কয়েক দিন লড়াই চলার পরে, শেষমেশ ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হল মহম্মদ জাহানের।
শাহিনবাগে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন চলতে থাকলেও ছোট্ট জাহানকে আর দেখা যাবে না সেখানে। শোকে বিহ্বল জাহানের মা-বাবা দাঁতে দাঁত চেপে জানিয়েছেন, অন্য সন্তানদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন তাঁরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্যই তাঁরা লড়ছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় দিল্লির শাহিনবাগে প্রায় দু’মাস ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। সেখানেই সামিল হয়েছিলেন দিল্লির বাটলা হাউস এলাকার দম্পতি আরিফ এবং নাজিয়া। তাঁদের তিন সন্তান। কনিষ্ঠতম জাহানের বয়স মাত্র চার মাস। অত ছোট বাচ্চাকে কার কাছেই বা রেখে আসবেন, তাই কোলে করেই সঙ্গে আনতেন তাকে। সমকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় আন্দোলনের সাক্ষী থাকত সে।
অল্প দিনের মধ্যেই সকলের মন কেড়েছিল ছোট্ট জাহান। আন্দোলনকারীদের কোলে কোলে ফিরত সে। কেউ খাইয়ে দিতেন, তো কেউ ঘুম পাড়াতেন যত্ন করে। কেউ আবার খুনসুটি করে নরম গালে তুলি ছুঁইয়ে এঁকে দিতেন জাতীয় পতাকা। নিজের মা-বাবার সঙ্গে গেলেও, জাহান যেন হয়ে উঠেছিল গোটা আন্দোলনের সন্তান। আন্দোলনের কনিষ্ঠতম মুখও হয়ে উঠেছিল সে।
সব শেষ হয়ে গেল তিন দিন আগে। প্রাণ হারাল সে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দিল্লির ওই কনকনে ঠান্ডায় দিনের পর দিন খোলা আকাশের নীচে অত ছোট বাচ্চাকে রাখাটা কি মা-বাবার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় নয়? আরিফ এবং নাজিয়া জানিয়েছেন, তাঁরা বুঝতে পারেননি এমনটা হবে।
[caption id="attachment_183705" align="aligncenter" width="400"]

আরও দুই সন্তানের সঙ্গে নাজিয়া ও আরিফ।[/caption]
মা-বাবা বলেন, “ওর ঠান্ডা লেগেছিল। ৩০ তারিখ রাতে ওকে নিয়ে বাড়ি ফিরি আমরা। ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিই তার পরে। আমাদের আর দুই সন্তান পাঁচ বছরের মেয়ে আর এক বছরের ছেলেকেও ঘুম পাড়াই। আমরাও ঘুমিয়ে পড়ি ক্লান্ত হয়ে। সকালে উঠে দেখি, জাহান নড়ছে না। শরীর ঠান্ডা।”
ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছোটেন নাজিয়া-আরিফ। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, রাতে ঘুমের মধ্যেই মারা গেছে সে। ভেঙে পড়েন তাঁরা। আন্দোলনের এত বড় মাসুল দিতে হবে, স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।
পেশায় রিকশা চালান আরিফ। জরির কাজে সাহায্য করেন নাজিয়া। নিম্নবিত্ত পরিবারে শোকের ছায়া নেমেচে সন্তানকে হারিয়ে। কিন্তু এতটুকু ম্লান হয়নি আন্দোলনের আঁচ। তাঁরা বলছেন, “আমার আরও দুই সন্তান আছে। ওদের ভবিষ্যতের জন্য তো লড়তেই হবে। ধর্মের কারণে ওদের যাতে দেশছাড়া হতে না হয়, সে জন্যই তো লড়াই।”
সন্তানের মৃত্যুর জন্য সরকারকেই দায়ী করছেন আরিফ। তাঁর কথায়, “এই নাগরিকত্ব আইন সারা দেশের বিপদ ডেকে এনেছে। মানুষের মধ্যে বিভাজন করছে। সরকার এমনটা না করলে কোনও প্রতিবাদ করার প্রয়োজন পড়ত না, আন্দোলনও হতো না। আমার ছেলেটার অকালমৃত্যু হতো না এভাবে।”