দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটি মানুষের জীবনেই বিয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বেশিরভাগেরই স্বপ্ন থাকে এই বিশেষ দিনটি সাড়ম্বরে পালন করার। নতুন জীবনে প্রবেশের অনুষ্ঠানে তাই সাধারণত প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। অতিথি অভ্যাগতদের আশীর্বাদে এবং ভালবাসায় মসৃণ হয় আগত দিনগুলি, এমনটাই বিশ্বাস করে মানুষ। রাখী আর তাতাই যদিও জীবনের এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য খানিকটা অন্য পথে হাঁটলেন। বৌভাতের অনুষ্ঠানে স্টেশন সংলগ্ন এলাকার ক্ষুধার্ত পথচারীদের মুখে ষোড়শব্যঞ্জন সহকারে স্বহস্তে খাবার তুলে দিলেন নবদম্পতি।
গত ২৩ নভেম্বর তাতাইয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আসানসোল গোপালনগরের বাসিন্দা সজলকান্তি দাস ও কাকলি দাসের মেয়ে রাখী। আজ শনিবার দুজনের বৌভাত। রাখী জানিয়েছেন, অনেকেই বিয়ের অনুষ্ঠানে মানুষকে খাওয়াতে অনেক অর্থ ব্যয় করেন। কিন্তু প্রচুর অসহায় ক্ষুধার্ত গরিব মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কথা কেউ ভাবে না। ভালমন্দ খাওয়া তো দূর, প্রতিদিন পেট পুরে খাবারই জোটে না তাঁদের। সেইসব নিরন্ন মানুষদের কথা ভেবেই নিজের জীবনের বিশেষ দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন বলে মনস্থির করেছিলেন তিনি।
এরপরেই স্বামীর সঙ্গে কথা বলে আসানসোল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বাবা বাসকীনাথ সেবাঙ্গনে গরিব ক্ষুধার্ত মানুষদের খাওয়ানোর আয়োজন করেন রাখী। ষোড়শ ব্যঞ্জন সাজিয়ে নিজের হাতে সকলকে খাবার পরিবেশন করেছেন নবদম্পতি।
যেহেতু আসানসোল রেলওয়ে স্টেশন চত্বর এলাকায় ঠাকুরের প্রতিমা রয়েছে তাই সেখানে অনেকেই নিরামিষ খাবার খান। তাঁদের কথা ভেবে এদিন নিরামিষ খাবারের আয়োজন করেছিলেন তাতাই এবং রাখী। মেনুতে ছিল ডাল, ভাত, পনির, মিক্সড ভেজিটেবল, পায়েস মিষ্টি সহ আরও অনেক কিছু। শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। তাদের পুষ্টির কথা ভেবে খাদ্য তালিকায় রাখা হয়েছিল আমিষ। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি তাদের জন্য চিকেনের আয়োজন করা হয়েছিল। মুখমিষ্টির জন্য পায়েস, মিষ্টি ছাড়াও ছিল আইসক্রিম।
দম্পতির এমন উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। এদিন পেট ভরে ভূরিভোজ খেয়েছেন অনেকেই। নবদম্পতিকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেছেন সকলে।