
শেষ আপডেট: 26 May 2023 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি এককালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন। ‘ইন্ডিয়ান রেভেনিউ সার্ভিস’-এর মত লোভনীয় চাকরি ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন অন্না হাজারের ডাকা জন-আন্দোলনে। পরে তাঁর তৈরি ‘আম-আদমি পার্টি’-কে তুলে ধরেছিলেন দুর্নীতি দমনে এক বৃহৎ হাতিয়ার হিসেবে। অথচ সেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) নাকি প্রায় ৫২ কোটি টাকা খরচ করে নিজের সরকারি বাসভবন ও ক্যাম্প অফিসকে সাজিয়েছেন (Delhi Government)। এমনটাই দাবি করা হচ্ছে এক নজরদারি বা ‘ভিজিল্যান্স’ রিপোর্টে।
১৯ মে ভিজিল্যান্স দফতরের বিশেষ সচিবের স্বাক্ষর করা ওই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দিল্লি সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সংস্কার করতে খরচ হয়েছে ৩৩.৪৯ কোটি টাকা। সঙ্গে তাঁর দফতর সংস্কারে খরচ হয়েছে ১৯.২২ কোটি টাকা। আর এই সবটাই হয়েছে কোভিড যখন তুঙ্গে ছিল, সেই সময় থেকেই। যার মধ্যে রয়েছে ৪৮ লক্ষ টাকার সজ্জাদ্রব্য, ৫ কোটি টাকার নানা শিল্পকর্ম, আড়াই কোটি টাকার মার্বেল, জাকুজি এবং কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মডিউলার রান্নাঘর।

সূত্রের খবর, দিল্লির উপরাজ্যপাল বিনয়কুমার সাক্সেনা সংবাদমাধ্যমে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাহারি সংস্কারের খবর পেয়ে খোদ দিল্লির মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেন, এই বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে। তারপরেই বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ, পিডব্লিউডি বা পূর্ত বিভাগকে এই ব্যাপারে সবটা জানানোও হয়নি। সরকারিভাবে দায়িত্ব না দিয়ে ইন্টিরিওর ডিজাইনিং করানো হয়েছে ‘ববি মুখার্জি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ নামক এক সংস্থার দ্বারা।
গোটা বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে আম আদমি পার্টি। যদিও দলের মুখপাত্রদের তরফে বিষয়টিকে বিজেপির চক্রান্ত বলেই দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক আম আদমি পার্টির মুখপাত্র বলেন, ‘রিপোর্টে কি কোনও অপরাধের কথা রয়েছে? এই প্রথম বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সরকারিভাবে বাসভবন, দপ্তর, কর্মীদের আবাস, প্রেক্ষাগৃহ, বৈঠকের ঘর ইত্যাদি সবই তৈরি করা হল। এতে অসুবিধে কোথায়? বিজেপি কি এবার ভোটের রাজনীতিতে সুবিধে করতে না পেরে লোকের ঘরবাড়িতেও ঢুকে যাবে? তাই যদিও হচ্ছে এবার। বিজেপির উচিত আদানিদের কেলেঙ্কারিতে নজর দেওয়া।‘
বিজেপি যথারীতি এমন সুযোগ হাতছাড়া করেনি। দলের দিল্লি ইউনিটের তরফে প্রবীণ শঙ্কর কাপুর বলেছেন, ‘আমরা এগুলো আগেই বলেছিলাম। এবার সেটাই সরকারিভাবে বেরিয়ে এল। দেখে খারাপ লাগছে যে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীই বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত।’
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আদৌ ফরাসি নয়, সিজার স্যালাড মেক্সিকোর, চেনা খাবারের অচেনা গল্প