
শেষ আপডেট: 25 September 2019 06:51
সাফাই অভিযানের পরে সেনা সূত্রের খবর, ১৩০ টন আবর্জনার মধ্যে ৪৮.৪১ টন ওজনের আবর্জনা বায়োডিগ্রেডেবেল। অর্থাৎ, প্রকৃতির সঙ্গে কোনও না কোনও দিন মিশে যাবে। ৪০.৩২ টন ওজনের আবর্জনা নন-বায়োডিগ্রেডেবেল। আরও ৪১.৪৫ টন ওজনের আবর্জনা শুধু নন-বায়োডিগ্রেডেবেলই নয়, তার উপর সেগুলি ধাতব বস্তু।
সেনা সূত্রের খবর, সিয়াচেন-সাফাই অভিযান আজ থেকে দেড় বছর আগে শুরু হয়েছিল। অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে ১৩০ টন আবর্জনা সরানোর পরে এখনও সেখানে ১০০ টনেরও বেশি আবর্জনা রয়েছে বলে আন্দাজ। আবর্জনাগুলি লাদাখের লে পর্যন্ত নামিয়ে এনে, নষ্ট করার বা পুনর্ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এক সেনা আধিকারিকের কথায়, "যেহেতু সারা দেশের জলের একটি বড় উৎস হিমালয়ের এই ধরনের হিমবাহগুলি, তাই এই হিমবাহগুলিকে আবর্জনামুক্ত রাখা খুব দরকার। অথচ বিস্তীর্ণ এই যুদ্ধক্ষেত্রে যে সংখ্যক সেনা মোতায়েন আছেন, তাতে আবর্জনার উৎপাদন বন্ধ করা খুবই মুশকিল। সে জন্যই নিয়মিত সাফাই জরুরি।"
১৯৮৪ সাল থেকেই ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে কারাকোরাম পর্বতমালার অন্তর্গত সিয়াচেন হিমবাহে। কারাকোরাম পর্বতমালার ২০ হাজার ফুট উচ্চতার এই মিলিটারি বেস সিয়াচেনে ছুচ ফোটানো কনকনে ঠান্ডা হাওয়া, তুষারঝড়ের ঝাপটা, দুর্গম আবহাওয়া পার করে যে ভাবে সেনারা সেখানে নিয়মিত ডিউটি করেন, তা সারা দেশের কাছে বিস্ময়। -৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্তও নেমে যায় তাপমাত্রা। তুষারধসের আশঙ্কা তো আছেই। শেষ দশ বছরে সিয়াচেনে কাজ করতে গিয়ে মৃত সৈনিকের সংখ্যা ১৬৩।
দিনে তাপমাত্রা মাইনাস ২৫ ডিগ্রি। রাতে মাইনাস ৪২ ডিগ্রি। বরফের চাদর কোথায় কত পুরু কেউ জানে না। কত হাজার হাজার বছর ধরে জমে রয়েছে এই বরফ, তারও ঠিকঠাক হিসেব নেই। এমন এক হিমবাহের মাথায় সেনা জওয়ানদের মোতায়েন করার জন্য বহু অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এবং পোশাক ব্যবহার করতে হয় সেনাবাহিনীকে।
সিয়াচেনের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার এত দিন না থাকলেও, সম্প্রতি সাধারণের জন্য সিয়াচেন হিমবাহ খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে ভারতীয় সেনা। বিশ্বের উচ্চতম ও শীতলতম সেনা ক্যাম্পে কাজ করা কতটা কঠিন, পর্যটকেরা যাতে তার একটা আন্দাজ পান, সেই উদ্দেশ্যেই এই বিষয়ে চলছে আলোচনা। সম্প্রতি লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তকমা পাওয়ার পর খেকেই এ বিষয়ে এগোতে চাইছে সেনা।
ভারতীয় সেনার চিফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আলাদা আগ্রহ কাজ করে চিরকালই। তার ওপর সিয়াচেন যেন রহস্যপুরী। কী ভাবে অত ঠান্ডায় তাঁরা কর্তব্যে অনড় থাকেন, কী ভাবেই বা তাঁরা প্রতিনিয়ত লড়াই করেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে-- এ সব বিষয় নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী সাধারণ মানুষ। সেই কারণেই সিয়াচেনের মতো কিছু দুর্গম জায়গায় সাধারণ মানুষকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছে সেনা।