দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপসর্গহীন করোনা রোগীরাই এখন চিন্তার কারণ। দেশজুড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কোভিড রোগীই উপসর্গহীন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এমনটাই দেখা গেছে। অ্যান্টিবডি টেস্ট বা সেরো সার্ভের রিপোর্ট বলছে, গ্রামের তুলনায় শহরে করোনা সংক্রমণের হার বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশে সেরো সার্ভের নতুন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের অন্তত ৯২ শতাংশ করোনা রোগী অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন। তাই অজান্তেই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বেশি মানুষের মধ্যে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্যোগে গত ৭ থেকে ১০ অগস্ট অন্ধ্রপ্রদেশের চার জেলা অনন্তপুর, পূর্ব গোদাবরী, কৃষ্ণা ও নেল্লোরে সেরো সার্ভে চালানো হয়। প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। গতকাল তার রিপোর্ট সামনে এসেছে। দেখা গেছে, কৃষ্ণা জেলায় শহরাঞ্চলেই প্রায় ৩৫.২ শতাংশ মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি রয়েছে। অর্থাৎ এই সংখ্যক মানুষ ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, অনন্তপুরে ২৮.৮ শতাংশ, পূর্ব গোদাবরীতে ১৯.৫ শতাংশ ও নেল্লোরে ১৩.৮ শতাংশের শরীরে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।
সেই তুলনায় গ্রাম বা প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে সংক্রমণের হার কম। কৃষ্ণা জেলার গ্রামগুলিতে ২১ শতাংশের রক্তে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে, অনন্তপুর ও পূর্ব গোদাবরীতে এই সংখ্যা যথাক্রমে ১৬.৭% ও ১৪.৪%।
সেরো সার্ভের রিপোর্ট আরও বলছে, অন্ধ্রে প্রায় ৯০ শতাংশ করোনা রোগীই উপসর্গহীন। অর্থাৎ শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে অথচ রোগের বাহ্যিক লক্ষণ নেই। অনন্তপুরে অনন্ত ৯৫ শতাংশ করোনা রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা উপসর্গহীন। মনে করা হচ্ছে, এই রোগীরা অজান্তেই সংক্রামিত হয়েছিলেন এবং এঁদের থেকেই রোগ ছড়িয়েছে অনেকের মধ্যে। কৃষ্ণা জেলায় এই উপসর্গহীনদের সংখ্যা প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ যা উদ্বেগের কারণ। অন্যদিকে নেল্লোর ও পূর্ব গোদাবরীতেও অ্যাসিম্পটোমেটিক কোভিড রোগীদের সংখ্যা চিন্তা বাড়িয়েছে প্রশাসনের। সেরো সার্ভের রিপোর্টে যা প্রায় ৯৬% ও ৯২%।
দিল্লির মতো অন্ধ্রেও দেখা গেছে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার বেশি। বিশেষত কৃষ্ণা ও পূর্ব গোদাবরী জেলায় অ্যান্টিবডি টেস্টের রিপোর্টে তেমনটাই দেখা গেছে। কৃষ্ণা জেলায় যেখানে ১৯ শতাংশ পুরুষ কোভিড পজিটিভ, মহিলাদের সংখ্যা সেখানে প্রায় ২৪ শতাংশ।
উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে দেশে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক গত মে মাসেই এই উপসর্গহীন বা বাহ্যিক লক্ষণহীন রোগীদের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। মার্চ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত এবং মে ও জুন মাসের কয়েকটি সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, ভারতে এই উপসর্গহীন করোনা রোগীদের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। যেহেতু রোগের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি তাই এদের বেশিরভাগকেই চিহ্নিত করা যায়নি।