দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার ড্রোন ওড়ানো সংক্রান্ত নতুন বিধি ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রসঙ্গে অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, ভারতে শীঘ্রই দেখা যেতে পারে এয়ার ট্যাক্সি। এর ফলে ট্রাফিক জ্যাম এবং দূষণ কমবে। তাঁর কথায়, "বিশ্ব জুড়ে এয়ার ট্যাক্সি নিয়ে গবেষণা চলছে। শীঘ্রই হয়তো রাস্তায় যেমন উবেরের মতো ট্যাক্সি চলাচল করে, আকাশেও তেমন চলবে। নতুন ড্রোন পলিসিতে তা সম্ভব হবে।"
নতুন ড্রোন পলিসিতে বলা হয়েছে, ড্রোন ব্যবহারের জন্য রেজিস্ট্রেশন করানো বা লাইসেন্স পাওয়ার আগে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স লাগবে না। তাছাড়া লাইসেন্স ফি-ও কমানো হবে উল্লেখযোগ্য হারে। পণ্য পরিবহণের জন্য তৈরি হবে ড্রোন করিডোর। ড্রোনের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৩০০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পরিবহণের অনুমতি দেওয়া হয়। নতুন বিধি অনুযায়ী ৫০০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পরিবহণ করা যাবে। একইসঙ্গে এদিন সরকার ড্রোন ট্যাক্সি চালানোরও অনুমতি দিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ড্রোন ওড়াতে গেলে ২৫ টি ফর্ম ফিল আপ করতে হয়। আগামী দিনে ফিল আপ করতে হবে মাত্র পাঁচটি ফর্ম। এখন ড্রোন ওড়ানোর জন্য ৭২ রকমের ফি দিতে হয়। আগামী দিনে দিতে হবে চার রকমের ফি। ডিজিটাল স্কাই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ড্রোনের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করানো যাবে।
সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন সংস্থা আগামী দিনে ড্রোন ওড়ানোর প্রশিক্ষণ দেবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি ড্রোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে ওই সংস্থা।
বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন সংস্থা এখনই ড্রোন ট্যাক্সি ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। জার্মান সংস্থা ভোলোকপ্টার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকসের সময় থেকে তারা টু সিটার ড্রোন ট্যাক্সি চালাবে। তা দেখতে হবে বৃহৎ আকৃতির ড্রোনের মতো। গত জুন মাসে হুন্ডাই জানায়, ২০২৫ সাল থেকে তারা এয়ার ট্যাক্সি চালানোর পরিকল্পনা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ওই সংস্থা জানিয়েছে, এয়ার ট্যাক্সি চলবে ব্যাটারিতে। তার মাধ্যমে শহরের ঘনবসতি অঞ্চলগুলো থেকে একসঙ্গে পাঁচ-ছয় জনকে পৌঁছে দেওয়া যাবে বিমান বন্দরে।
বিভিন্ন স্টার্ট আপ সংস্থা ইতিমধ্যে এয়ার ট্যাক্সি বানানো শুরু করেছে। তা উড়বে হেলিকপ্টারের মতো। তবে এয়ার ট্যাক্সি চালিয়ে কতদিনে মুনাফা করা যাবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। আমেরিকার আর্থিক পরিষেবা সংস্থা মর্গান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে এয়ার ট্যাক্সি ব্যবসার যে বাজার সৃষ্টি হবে, তার পরিমাণ ৯ হাজার কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় ওই অর্থের পরিমাণ ৬,৫৯,৪৯, ৬৬০ কোটি টাকা।