দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদের কোভিড হাসপাতালে ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে আট রোগীর। কীভাবে আগুন লাগল খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে শর্ট শার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। ঘটনায় হাসপাতালের দুই কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের অ্যাস্টিস্টান্ট কমিশনার (বি-ডিভিশন) এলবি জ়ালা বলেছেন, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে শর্ট সার্কিট হয়েছিল বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল জানার জন্য হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের এক সদস্য ভারত মহন্ত ও এক ওয়ার্ড বয়কে আটক করা হয়েছ। তাদের জেরা করা চলছে।
ভোর রাত ৩টে নাগাদ হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন লাগে। প্রথমে হাসপাতালের ওই ফ্লোর থেকে ধোঁয়া বের হতেন নিরাপত্তা রক্ষীরাই। ছুটোছুটি করে যতক্ষণে রোগীদের উদ্ধার করা হয়, আগুন ছড়িয়ে পড়ে আইসিইউ ও সংলগ্ন কয়েকটি ওয়ার্ডে। আটজন রোগী ঝলসে যান। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, রোগীদের শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গিয়েছিল। বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ওই ফ্লোরের আরও ৩৫ জন রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
https://twitter.com/narendramodi/status/1291206650930421760
এই ঘটনায় টুইট করে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রোগীদের পরিবারকে সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি। টুইটারে মোদী লেখেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমি দুঃখিত। মৃত রোগীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইল। ঘটনার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী ও মেয়র বিজল পটেলের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালকে সবরকমভাবে সাহায্য করবে কেন্দ্রীয় সরকার।”
https://twitter.com/AmitShah/status/1291219372900413440
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টুইট করে শোকপ্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। টুইটার পোস্টে তিনি লিখেছেন "আমদাবাদের হাসপাতালে এই মর্মান্তিক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। আহতরা দ্রুত সেরে উঠুন এই প্রার্থনা করছি। "
নভরঙ্গপুরার শ্রে হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আমদাবাদের নভরঙ্গপুরার নামী মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালের আইসিইউতে কীভাবে আগুন লাগল সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। জয়েন্ট কমিশনার (সেক্টর ১) রাজেন্দ্র আসারি বলেছেন, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী ঘোষণা করেছেন, মৃত রোগীদের পরিবারপিছু চার লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। ঘটনায় যাঁরা জখম হয়েছেন সেই রোগীদের পরিবারপিছু দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে গুজরাত সরকার।