আরও এক করোনা ভ্যাকসিন সফল বলে দাবি, বানিয়েছে মার্কিন সংস্থা ফিজার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবারই রাশিয়া বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। রুশ ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' নিয়ে নানা বিতর্কও চলছে। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাদের ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি
শেষ আপডেট: 13 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবারই রাশিয়া বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। রুশ ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' নিয়ে নানা বিতর্কও চলছে। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাদের ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি জানাল মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফিজার। আরএনএ জিন প্রযুক্তিতে তৈরি এই টিকার প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলি সফল হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
নিউ ইয়র্কের ওষুধ কোম্পানি ফিজারের তৈরি করা ভ্যাকসিন আমেরিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়েছে। আর তাতে সাফল্যও মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফিজার আপাতত এই ভ্যাকসিনের নাম রেখেছে বিএনটি১৬২বি১। সংস্থা বলছে, এই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রয়োগ করা হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে আর দ্বিতীয় ডোজে তা আরও শক্তিশালী হয়। গত ১২ অগস্ট প্রকাশিত নেচার জার্নাল জানিয়েছে, এই টিকার এমনিতে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকলেও কোনও কোনও স্বেচ্ছাসেবীর ক্ষেত্রে ইঞ্জেকশন নেওয়ার জায়গায় ব্যথা হয়েছে। ক্লান্তি, জ্বর, নিদ্রাহীনতা মাথা যন্ত্রণার মত নানা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তবে গবেষকরা দাবি করেছেন, এই সব লক্ষণ সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই কেটে যাবে। এটাও দেখা গিয়েছে যে, অতীতে করোনা আক্রান্তদের তুলনায় যারা কখনও করোনা আক্রান্ত হয়নি তাদের শরীরে এই ভ্যাকসিন বেশি ভাল কাজ করছে।
https://twitter.com/FanXstitch/status/1293634832468238337
বিভিন্ন দেশেই নানা সংস্থার ভ্যকসিন এখন ট্রায়ালের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন আশা তৈরি করল ফিজারের এই দাবি। তবে এখনও পর্যন্ত এই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকরী কিনা সেই সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা হয়নি। ভ্যাকসিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যও পেশ করেনি ফিজার।
গত মঙ্গলবার করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্বে প্রথম মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর কথা স্মরণ করিয়ে ভ্যাকসিনের নাম রাখা হয়েছে ‘স্পুটনিক ভি’। পরে জানা গেছে, সেই ভ্যাকসিন কার্যকরী ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়স্কদের ক্ষেত্রে। এর কম বা বেশি বয়সের ক্ষেত্রে আদৌ কার্যকর হবে কিনা তার পরীক্ষাই করা হয়নি। জানিয়েছেন রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কর্তাই। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও অতিবৃদ্ধদেরই করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে ভ্যাকসিনের সাফল্য দাবি করার ক্ষেত্রে রাশিয়া তাড়াহুড়ো করেছে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছে। ভ্যাকসিনের তথ্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ভ্যাকসিনের প্রথম স্তরের ট্রায়ালের পরেই রাশিয়া দাবি করেছে টিকা সার্বিকভাবে প্রয়োগের জন্য তৈরি। যেখানে অক্সফোর্ড, মোডার্না এখনও তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালেই রয়েছে।