তিনি সাফ জানান, ''আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার একটা মানহানি হয়েছে। বাংলাকে ছোট করে কয়েকজনের আচার-আচরণে বাংলার মাথা হেঁট হয়েছে। এটা কখনওই কাম্য ছিল না।''

শেষ আপডেট: 17 December 2025 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুবভারতীর ঘটনা (Messi in Kolkata incident) গোটা দেশে বাংলার যে মানহানি হয়েছে, সেই নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ''যুবভারতীতে (Yuvabharati) যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা কেউ সেটা আশা করিনি। একাংশের গাফিলতিই বলুন বা আয়োজকদের গাফিলতিই হোক, পুলিশ প্রশাসনের তরফেও শিথিলতা রয়েছে। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত হচ্ছে।''
তিনি জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে বিধাননগর কমিশনারেটের সিপি, যুবভারতীর সিইওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিষেক আরও বলেন, ''গতকাল ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগপত্রও (Arup Biswas resignation) মুখ্যমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন এবং ঘটনা ঘটার ১ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে পুরো ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। ভারতবর্ষের অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই সৌজন্য দেখাননি।''
বাংলার কিছু প্রভাবশালীর আচার আচরণ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ অভিষেক, তা প্রকাশ পেল তাঁর কথায়। তিনি সাফ জানান, ''এই ঘটনা কেউ আমরা চাইনি। আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার একটা মানহানি হয়েছে। বাংলাকে ছোট করে কয়েকজনের আচার-আচরণে বাংলার মাথা হেঁট হয়েছে। এটা কখনওই কাম্য ছিল না। কিন্তু একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার বা প্রশাসন কী করছে, সেটাও আমাদের নজপরে রাখা উচিত। একাধিক রাজ্যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে, কোনওরকম ধরপাকড় বা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া, আমরা স্বাধীনতা পর থেকে কোথাও দেখিনি।''
প্রশাসনের তরফে যে গাফিলতির অভিযোগ উঠে এসেছিল, সেই প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য, ''মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কোথাও একটা রাজ্য প্রশাসনের ভুল হয়েছে, গাফিলতি ছিল - সেটা তো উনি স্বীকার করেছেন। ক্ষমা চেয়েছেন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে। যারা এটা নিয়ে রাজনীতি করছে, তারা বাংলাকে আরও ছোট করছে। ফুটবলের মক্কা-মদিনা বলতে আমরা বাংলাকে বুঝি। যে আশা উৎসাহ নিয়ে দর্শকরা এসেছিলেন, আচার আচরণ, 'আদিখ্যেতা'য় বা বেশি উৎসাহী হয়ে যাঁরা ফ্যানদের নিরাশ করেছেন, তাঁদের সেই জবাবদিহি করতে হবে। সেখানে যা যা হওয়ার কথা ছিল, কিছুই হয়মি। সময়ের আগেই তিনি (মেসি) চলে গেছেন, যাঁরা টাকা জমিয়ে দিয়ে টিকিট কেটে মেসিকে দেখবেন বলে এসেছিলেন তাঁদের ক্ষোভের কারণ রয়েছে। এটা নিয়ে যেন রাজনীতি না হয়, সকলের বিরুদ্ধে রাজ্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। তদন্ত চলেছে।''