দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিনেই রক্তাক্ত হয়েছিল উপত্যকা। ৪০ সিআরপিএফ জওয়ানের রক্তে ভিজেছিল পুলওয়ামা। এর পরে ঘাত-প্রত্যাঘাত ঘিরে এখনও অশান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা ও তার সংলগ্ন একাধিক এলাকা। বারে বারেই সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে জম্মু, রাজৌরি, পুঞ্চের ৫৫টি ভারতীয় চৌকিতে গুলি বর্ষণ করে চলেছে পাক সেনারা। এমন পরিস্থিতিতে ফের জঙ্গি হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুলওয়ামা। শনিবার জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে গুরুতর জখম এক সিআরপিএফ জওয়ান।
সেনা সূত্রে খবর, শনিবার বেলার দিকে পুলওয়ামার স্টেট ব্যাঙ্কের সামনে আচমকাই গ্রেনেড হামলা হয়। বিকট আওয়াজে ভয় পেয়ে ছুটতে শুরু করে দেন স্থানীয়রা। সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলার পর থেকেই গোটা উপত্যকায় চলছে সেনা ও পুলিশি টহলদারি। পুলওয়ামাতেও এ দিন টহল দিচ্ছিলেন সিআরপিএফের বেশ কয়েকজন জওয়ান। তাঁদের একজন গুরুতর জখম হয়েছেন।
সেনা কনভয়ে হামলার পর দিনই পুলওয়ামার পিঙ্গলিশ গ্রামে জঙ্গি দমন অভিযানে নেমেছিল সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল ফোর্স। গুলির লড়াইয়ে খতম হয় পুলওয়ামার অন্যতম চক্রি তিন জঙ্গি। এর পরেও একাধিক বার পুলওয়ামা, সোপিয়ানে অভিযান চালিয়েছে সেনা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, পুলওয়ামা, সোপিয়ান ছাড়াও কৃষ্ণঘাঁটি, নওশেরা, পুঞ্চের একাধিক জায়গায় জঙ্গিদের ঘাঁটি গেড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিনের হামলার লক্ষ্যও ছিল টহলরত সিআরপিএফ জওয়ানেরা। হামলার পরই কার্যত নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা পুলওয়ামা।
https://twitter.com/ANI/status/1111946631300202496
পুলওয়ামা হামলার আগে ভিডিয়োয় আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল দার জানিয়েছিল, সে আফগানিস্তানে তালিবানের লড়াই দেখে অনুপ্রাণিত। পুলওয়ামা হামলার মূল হ্যান্ডলার হিসেবে পরিচিত রশিদ গাজ়ি আফগানিস্তানের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। গাজিই আদিলকে ফিদায়েঁ জঙ্গির প্রশিক্ষণ দেয়। এনআইএ সূত্রে খবর, তালিবান শিক্ষায় অনুপ্রাণিত ফিদায়েঁদের এখনও উপত্যকায় লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পুলওয়ামাতেই হামলার পরবর্তী ছক কষতে পারে তারা।