দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৮ এপ্রিল দিল্লির এক ব্যক্তির শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তিনি কাপাশেরা অঞ্চলের এক বহুতলের কয়েকজন বাসিন্দার সংস্পর্শে এসেছিলেন। ওই ব্যক্তি কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন জানতে পেরেই দিল্লি পুরসভা ওই এলাকা সিল করে দেয়। ২০ ও ২১ এপ্রিল স্থানীয় ১৭৫ জনের শরীর থেকে স্যাম্পেল সংগ্রহ করে।
তাঁদের মধ্যে ৬৭ জনের স্যাম্পেল পরীক্ষার ফলাফল জানা গিয়েছে শনিবার। তাতে দেখা যায়, বহুতল বাড়ির ৪৪ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ। এত দেরিতে পরীক্ষার ফল জানা যাওয়ায় নানা মহলে ছড়িয়েছে উদ্বেগ। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলের আরও অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। কাপাশেরা অঞ্চল অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। সেখানকার বাসিন্দাদের মাধ্যমে রোগ ছড়াতে পারে নিকটবর্তী গুরগাঁওতেও।
ভারতের যে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে করোনার সংক্রমণ বেশি হয়েছে, তাদের মধ্যে দিল্লি অন্যতম। সেখানে কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৩৮ জন। মারা গিয়েছেন ৬১ জন। রাজধানীর ১১ টি জেলাকেই রেড জোন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকালে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন ঘোষণা করেন, ১৭ মে অবধি জেলাগুলি রেড জোন হয়েই থাকবে।
মন্ত্রীর কথায়, “যদি কোনও জেলায় ১০ জনের বেশি করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে সেই জেলাকে রেড জোন বলা হয়। দিল্লির ১১ টি জেলাই ১৭ মে অবধি রেড জোন হয়ে থাকবে। রেড জোনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে ত্রাণ দেবে বলে ঘোষণা করেছে, তা জেলাগুলিতে পাওয়া যাবে।”
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দিল্লি বাদে অন্যান্য মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বইকে রেড জোন হিসাবে গণ্য করা হবে। সারা দেশে মোট ১৩০ টি জেলাকে রেড জোন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল আটটায় জানা গিয়েছে, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২২৯৩ জন। এর আগে কখনও একইদিনে এতজন আক্রান্ত হননি। দেশে এখন কোভিড ১৯ রোগীর সংখ্যা ৩৭৩৩৬। মারা গিয়েছেন ১২১৮ জন।