দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৫ সালের মুক্তি পেয়েছিল অজয় দেবগণ অভিনীত ছবি ‘দৃশ্যম’। অনেকটা সেই ছবির কায়দায় খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা করেছিল নাগপুরের এক যুবক। তার নাম অমরসিংহ, ওরফে লালু যোগেন্দ্রসিং ঠাকুর। বয়স ২৪। তার প্রতিবেশী ছিলেন পঙ্কজ দিলীপ গিরামকর। তিনি পেশায় ছিলেন ইলেকট্রিশিয়ান। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল যোগেন্দ্রর। নাগপুরের কাপসি অঞ্চলে এক ধাবার মালিক ছিল সে। গত রবিবার সেই ধাবার পিছনের গর্ত থেকেই উদ্ধার হয়েছে গিরামকরের দেহ।
পুলিশের এডিজি (ক্রাইম) নীলেশ ভারনে জানিয়েছেন, গিরামকর তাঁর স্ত্রীর অবৈধ প্রণয়ের কথা জেনে গিয়েছিলেন। সেজন্য গত ডিসেম্বর মাসে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ওয়ার্ধা জেলায় চলে যান। গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি মোটর সাইকেলে চড়ে যোগেন্দ্রর ধাবার সামনে আসেন। যোগেন্দ্রকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেন। তা থেকে শুরু হয় বচসা। রাগের মাথায় যোগেন্দ্র হাতুড়ি দিয়ে গিরামকরের মাথায় আঘাত করে। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান। তারপরে ৩২ বছর বয়সী গিরামকরের দেহ ও বাইক লোপাট করে দেওয়ার জন্য ছক কষে যোগেন্দ্র।
সে তার ধাবার পাচক ও আরও এক কর্মীর সাহায্যে গিরামকরের দেহটি স্টিলের ড্রামে ভরে ফেলে। তারপর একজনকে দিয়ে ধাবার পিছনে ১০ ফুট গভীর গর্ত খোঁড়ায়। সেই গর্তে সে ৫০ কেজি নুন ঢালে। সেখানে দেহটি ফেলে দেয়। তার ওপরে মোটর সাইকেলটিও ফেলে। শেষে মাটি দিয়ে গর্ত বুজিয়ে দেয়। মৃতের মোবাইল ফোনটি সে ফেলে দেয় এক ট্রাকে। ট্রাকটি রাজস্থানে যাচ্ছিল।
গিরামকর বাড়ি ফিরছেন না দেখে তাঁর বাড়ির লোকজন পুলিশে ডায়েরি করে। একটি নির্দিষ্ট সূত্র পেয়ে সাদা পোশাকের পুলিশ যোগেন্দ্রর ধাবার ওপরে নজর রাখতে থাকে। পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ শুক্রবার রাতে যোগেন্দ্র, তার ধাবার পাচক মনোজ ওরফে মুন্না রামপ্রবেশ তেওয়ারি (৩৭) এবং তার অপর সঙ্গী শুভম ওরফে তুষার রাকেশ ডোঙ্গরে (২৮)-কে গ্রেফতার করে। জেরার মুখে তারা অপরাধ স্বীকার করে। কোথায় দেহ পুঁতে রেখেছে জানায়। সেইমতো গর্ত থেকে গিরামকরের দেহ ও মোটর সাইকেলটি উদ্ধার হয়। পুলিশ এখন যোগেন্দ্রর ধাবার ওয়েটারকে খুঁজছে।