দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি মেডিক্যাল কলেজের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান। সে পরিচয় না হয় ছেড়েই দিন। ডাক্তারিও পাশ করেছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকেই। অথচ সেই তিনি, শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী নির্মল মাজি, সোমবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁর বক্তৃতায় আগাপাশতলা বদলে দিলেন কলেজের ইতিহাস! এবং খুব সাবলীল ভাবেই।
মন্ত্রী বলেন, এশিয়ার প্রথম মেডিক্যাল কলেজ তথা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। নির্মলের এ কথা শুনেই সভাঘরে হাসির রোল ওঠে। ব্যাপারটা সামলানোর চেষ্টা করে নির্মল তখন বলেন, থুড়ি, ডিরোজিও নন, কলকাতা মেডিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ডেভিড হেয়ার।
তাতে হাসির দমক যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। মুখ চেপে হাসি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন দর্শকাসনে বসা ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীরা। চরম বিড়ম্বনায় অনুষ্ঠানের আয়োজকরা।
তবু নির্মলবাবুর হেলদোল নেই। অস্বস্তিতে পড়ে যাওয়ায় দূরস্থান, আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি। তাঁর মুখ থেকে এক বার যে শব্দ বেরিয়েছে সেটাই ব্রহ্ম! হার মানতে রাজি নন তিনি। পরে ফোন করা বলে মন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠাতা নয়, আমি তো বলেছি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন ডিরোজিও। নন মেডিক্যাল স্টাফ হিসেবে প্রথম প্রিন্সিপাল হন তিনিই। ডেভিড হেয়ার, রাজা রামমোহন রায় এনারাও অনেক দান করেছেন কলেজের জন্য।’’
আগেও বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছেন নির্মল মাজি। মন্ত্রীর বক্তব্য শুনে বিশিষ্ট চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘ব্র্যামলি ছিলেন প্রথম প্রিন্সিপাল। ডিরোজিও কোথা থেকে এলেন বুঝতে পারছি না। ইতিহাস জেনে মন্তব্য করা উচিত।’’ মেডিক্যাল কলেজের এক স্বাস্থ্য কর্তার মন্তব্য, ‘‘ডিরোজিও মারা যান ১৮৩১ সালে। কলেজের প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৩৫-এ। বাকিটা বুঝে নিন।’’
আরও পড়ুন: শিশুর খাবারে শুয়ে আছে শুঁয়োপোকা, সৌজন্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন ডঃ শঙ্কর নাথ। মেডিক্যাল কলেজের ইতিহাস নিয়ে তাঁর লেখা বই রবীন্দ্র পুরস্কার পায়। এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে শঙ্করবাবু বলেন, ‘‘১৮৩৫ সালে এশিয়া মহাদেশে প্রথম মেডিক্যাল কলেজ হিসেবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠা হয়। ‘GO-২৮/dated ২৮.০১.১৮৩৫’ অনুসারে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিঙ্ক এই সরকারি নির্দেশিকা দিয়েছিলেন। প্রথম প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব নেন চিকিৎসক মাউন্ট ফোর্ড জোসেফ ব্র্যামলি। ১৮৩৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্র্যামলির অকাল মৃত্যুর পর সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রিন্সিপাল এই শব্দটি এবং প্রিন্সিপাল পদ দুটোই সরকার তুলে দেয়। নতুন পদ তৈরি হয় সেক্রেটারি। সেটি তখন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সর্বোচ্চ পদ, যা প্রিন্সিপাল পদের সমতুল্য। সেই পদে ১৮৩৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন ডেভিড হেয়ার। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী তিনিই একমাত্র নন মেডিক্যাল কর্মী যিনি একটি মেডিক্যাল কলেজের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। কিন্তু প্রিন্সিপাল হিসেবে নন, সেক্রেটারি হিসেবে। ১৮৪১ সালে তিনি সেই পদ থেকে সরে যান। ১৮৫৬ সাল থেকে আবার প্রিন্সিপাল পদ ফিরিয়ে আনে সরকার। ডিরোজিওর মৃত্যু হয়েছিল ১৮৩১ সালে। তিনি কোনও ভাবেই মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।’’
আরও পড়ুন: মেডিক্যাল কলেজের অভূতপূর্ব পদক্ষেপ! সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকার ওষুধে বাঁচল ১২ বছরের রুদ্র
https://www.four.suk.1wp.in/12-years-old-boy-haemophilia-patient-saved-by-medical-college-by-pushing-drug-of-17-lacks/
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন