দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের কি ভয়াবহ খরার মুখোমুখি হতে চলেছে মহারাষ্ট্র? প্রবল গরমে ফুটিফাটা মাটি আর জলাধারের অবস্থা দেখে এমনটাই আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। রাজ্যের জল সংরক্ষণ দফতরের সূত্র বলছে, ২৬টি জলাধারের বেশিরভাগই জলশূন্য। বাকিগুলির অবস্থাও তথৈবচ। সেচের জন্য পর্যাপ্ত জল নেই। কাজেই খরার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি সূত্র বলছে, গত ১৮ মে রাজ্যের সমস্ত জলাধারগুলি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ২৬টি জলাধার ইতিমধ্যেই ‘জিরো মার্ক’-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মহারাষ্ট্র জল সংরক্ষণ দফতরের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, ঔরঙ্গাবাদ ডিভিশনের জলাধারগুলিতে জল প্রায় নেই বললেই চলে। ওই ডিভিশনের বিড, হিঙ্গোলি, পারভানি এবং ওসমানাবাদ জেলায় জলের সংকট দেখা দিতে পারে। গত বছর জলাধারগুলিতে যেখানে জল ছিল ২৩.৪৪ শতাংশ, চলতি বছরে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ০.৪৩ শতাংশে।
পাশাপাশি, এই ডিভিশনের পাইথন, মাঞ্জারা, মাজালগাঁও, ইয়েলদারি, সিদ্ধেশ্বর, সিনা কোলেগাঁও-সহ বেশ কয়েকটি নদী বাঁধও প্রায় জলশূন্য। সমীক্ষা বলছে, গত বছরের মে মাসে পাইথনে জল ছিল ৩৪.৯৫%, মাঞ্জারাতে ২১.২৪%, মাজালগাঁওতে ১৭.৫%। হালে সেগুলো জিরো মার্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে খরা কবলিত গ্রামের সংখ্যায় দেশের পাঁচটি রাজ্য এগিয়ে রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও কর্নাটক। উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৫০টি জেলা খরা কবলিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ কর্নাটক ও ঝাড়খণ্ডে। ঝাড়খণ্ডের ২৪টি জেলার মধ্যে ২২টি জেলাই খরা কবলিত। কর্নাটকের ৩০টি জেলার মধ্যে ২৭টি জেলা খরাক্লিষ্ট এবং মহারাষ্ট্রে ৩৬টি জেলার মধ্যে ২১টি জেলা এবং মধ্যপ্রদেশের ৫১টি জেলার মধ্যে ৪৬টি জেলা খরা কবলিত।
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় খরার ঘটনা ঘটেছিল চিনে। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১, এই তিন বছরে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ খরার কবলে পড়েছিলেন। আর ভারতে গত ৫০ বছরে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা হয়েছিল মহারাষ্ট্রে ২০১৩ সালে।