দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ কী কাণ্ড! আবাসনের সেপটিক ট্যাঙ্ক ভরে উঠেছে মানুষের মাংস ও দেহের নানা অংশে। মুম্বইয়ের ভিরার এলাকার বাচরাজ প্যারাডাইস সোসাইটির একটি আবাসনে এমন দৃশ্য দেখে শিউরে উঠলেন বাসিন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, আবাসনের এক সাফাইকর্মী প্রথম এই দৃশ্য দেখতে পান। তিনিই খবর দেন আবাসিকদের। বেশ কিছুদিন ধরেই ওই আবাসনের নিকাশি ব্যবস্থায় সমস্যায় হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অনেকের বাথরুমে জলও জমে যাচ্ছিল। তাই বুধবার খবর দেওয়া হয় সাফাইকর্মীদের। সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়েই দেখা যায়, জলে ভাসছে টুকরো টুকরো দেহের নানা অংশ।
মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে গোটা রহস্যের উদঘাটন করেছে পুলিশ। বাচরাজ প্যারাডাইসের ওই আবাসনের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ধৃতের নাম পিন্টু। জেরায় সে জানিয়েছে তারই এক ক্লায়েন্টকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে কমোডে ফ্লাশ করে দেয়। সেই টুকরোগুলোই জমা হয়েছিল সেপটিক ট্যাঙ্কে।
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ঘটনা ঘটে এক সপ্তাহ আগে। নিহতের নাম গণেশ বিত্তল কোলহাতকর (৫৮)। তিনি একটি প্রেস চালাতেন। পিন্টুর সঙ্গে তাঁর আলাপ দীর্ঘদিনের। শেয়ার বাজারে টাকা ঢালত পিন্টু। সেই সূত্রেই গণেশের সঙ্গে তাঁর আলাপ। পিন্টু জানিয়েছে, তাঁর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন গণেশ। সেই টাকা তিনি ফেরত দেননি। নানা বাহানা করে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। গত ১৬ জানুয়ারি নিজের ফ্ল্যাটে গণেশকে নিমন্ত্রণ করে ডেকে আনে পিন্টু। তাঁকে আকণ্ঠ মদ্যপান করায়। বেহুঁশ হয়ে গেলে তাঁকে কুপিয়ে খুন করে।
পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত ভাজওয়ালের কথায়, গণেশের পরিবারের লোকজন নিখোঁজ ডায়রি করেছিলেন। সেই সূত্রে তাঁকে খোঁজার কাজও চলছিল। পিন্টুর সঙ্গে গণেশের সম্পর্কের কথা পুলিশকে জানিয়েছিলেন গণেশের পরিবারের লোকজন। পরে পিন্টুর আবাসন থেকেই মানুষের দেহাংশ উদ্ধারের পর সন্দেহ হয় পুলিশের। জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, দু'তিন দিন ধরে একটু একটু করে মৃতদেহ টুকরো করে সে। হাড়গুলো আলাদা করে ফেলে দেয় ট্রেন লাইনের পাশে। মাংশ ও দেহের অন্যান্য অংশ ফ্লাশ করে কমোডে। খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।