দিল্লির সীমাপুরীতে বিক্ষোভে জড়িত বাংলাদেশিরা, ১৫ জনকে শনাক্ত করল সিট
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ)প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লি। গত ২০ ডিসেম্বর বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সীমাপুরী এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে দেখা যায় শয়ে শয়ে বিক্ষোভকারীকে। এই ঘটনার তদন্তভার যা
শেষ আপডেট: 3 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ)প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লি। গত ২০ ডিসেম্বর বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সীমাপুরী এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে দেখা যায় শয়ে শয়ে বিক্ষোভকারীকে। এই ঘটনার তদন্তভার যায় বিশেষ তদন্তকারী দল (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম) সিটের উপর। প্রাথমিক রিপোর্টে সিট জানিয়েছে, ২০ তারিখের ঘটনায় হিংসা ছড়ানোর পিছনে মদত দিয়েছিল বাংলাদেশিরা। হিংসাত্মক কার্যকলাপ, সংঘর্ষে মদত দেওয়ার জন্য দায়ী ১৫ জন বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে।
সিটের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সীমাপুরীর দিল্লি-গাজিয়াবাদ সীমান্তবর্তী এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, এলোপাথাড়ি ইট-পাথর ছুড়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে ওই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। বিক্ষোভ থামাতে গেলে পুলিশের উপরেও হামলা হয়। পাথর আর ভাঙা কাচের বোতল ছুড়তে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। তাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহতও হয়েছিলেন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার রোহিত রাজবীর সিং বলেছেন, শুক্রবার সীমাপুরীতেই ফের নতুন করে বিক্ষোভে মদত দিচ্ছিল ওই বাংলাদেশিরা। ১৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে যারা ওই হিংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এরা সবাই জেজে কলোনিতে বেআইনিভাবে বসবাস করে। নানা অপরাধমূলক কাজের জন্য আগেও পুলিশের খাতায় তাদের নাম উঠেছিল। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। খুব দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, সীমাপুরী ও তার সংলগ্ন এলাকায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ডিরেক্টর জেনারেল মেজর শাফিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এনআরসি চালু হওয়ার পর থেকে গত দু’মাসে ভারতে আসা ৪৪৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছে। মেজর জেনারেল আরও জানিয়েছিলেন, তাদের পরিচয় খতিয়ে দেখার পরে জানা যায় প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক। বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরনোর চেষ্টা করায় তাদের বিরুদ্ধে ২৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে । ধৃতদের মধ্যে তিনজন মহিলা ও শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলেও জানা গেছে।