মা কুকুরের চোখ খুবলে পিটিয়ে আধমরা করে, নির্মম মার ছানাদের, সামনে এল নৃশংস ভিডিও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লাস্টিক বন্দি রক্তাক্ত, থেঁতলানো ১৬টি কুকুরছানার দেহ যখন হাসপাতাল চত্বরে শুইয়ে রাখা হচ্ছিল সেটা দেখে থমকে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষজন। কেউ ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলেন, আবার কারও মুখ দিয়ে অস্ফুটেই বেরিয়ে এসেছিল, “ইস
শেষ আপডেট: 13 January 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লাস্টিক বন্দি রক্তাক্ত, থেঁতলানো ১৬টি কুকুরছানার দেহ যখন হাসপাতাল চত্বরে শুইয়ে রাখা হচ্ছিল সেটা দেখে থমকে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষজন। কেউ ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলেন, আবার কারও মুখ দিয়ে অস্ফুটেই বেরিয়ে এসেছিল, “ইস! এ-ও সম্ভব।” শিয়ালদহের নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ষোলোটি সারমেয়র হত্যাকাণ্ডে রবিবার রাত থেকেই পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। ছিছিক্কার পড়ে গেছে চারদিকে। এরই মধ্যে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যা প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত হয়ে গেছে গোটা শহর।
ভিডিওটি হাসপাতালের ভিতরের। সামান্য অপরিস্কার হলেও বুঝতে অসুবিধা হয় না, কী ভাবে প্রতিহিংসার আগুন নিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে সেই কুকুরছানাগুলিকে। আর তাদের হত্যাকারী দুই মহিলা। তাদের প্রথম নিশানা ছানাগুলির মা। এই কুকুরটিকেই গতকাল হাত-পা বাঁধা, চোখ খুবলানো অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছিল। তবে সোমবার সকালেই মৃত্যু হয়েছে তার।

ভিডিওতে দেখা গেছে, লাঠি নিয়ে এলোপাথাড়ি মা কুকুরটিকে পেটাচ্ছেন দুই মহিলা। পরিত্রাহী চিৎকার করছে কুকুরটি। তার চারপাশেই ঘুরঘুর করছে ছোট ছোট ছানাগুলো। রেয়াত করা হচ্ছে না তাদেরও। হাতের সামনে যাকেই পাওয়া যাচ্ছে বেদম পিটিয়ে দিচ্ছেন ওই মহিলারা। মা কুকুরের আর্তনাদের সঙ্গে কুকুর ছানাদের কচি গলার কান্নার শব্দে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। ভিডিওর সেই শব্দ অত্যন্ত মর্মান্তিক। বীভৎসতা বা অমানবিকতা কোনও শব্দই এখানে বোধহয় ঠিকমতো খাটে না। কুকুরগুলিকে প্রথমে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল কিনা সেই বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নির্মম প্রহারের চোটেই যে তাদের মৃত্যু হয়েছে সেই বিষয় নিশ্চিত। মা কুকুরটির হাত-পা ভেঙে, চোখ খুবলেও শান্তি হয়নি দুই মহিলার। বড় কুকুরটিকে আধমরা করে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হয় ছোট ছানাগুলি। একটা একটা করে ছানাকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন দু’জনে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়তে শুরু করে তারা। তাতেও ক্ষান্ত হননি দু’জনে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য অবশ শরীরগুলির মাথা ও হাত-পা থেঁতলে দেওয়া শুরু করেন। শেষে প্লাস্টিক বন্দি করে সেই দেহ তারা ফেলে দিয়ে আসেন হাসপাতালের ভিতরে আস্তাকুঁড়ে।
গতকাল দুপুরে, হাসপাতালের আস্তাকুঁড়ের মধ্যে এই প্যাকেটগুলিই পড়ে থাকতে দেখেন এক হাসপাতাল কর্মীর স্ত্রী পুতুল রায়। প্যাকেটগুলির পাশেই আধমরা অবস্থায় পড়েছিল মা-কুকুরটি। পুতুলদেবীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি উঁকিঝুঁকি দেন প্যাকেটগুলিতে। একটি খোলা মুখের ভিতরে কুকুরছানা দেখতে পান তিনি। কৌতূহলী হয়ে বাকি প্যাকেটের মুখগুলি খুলতেই দেখতে পান কয়েক সপ্তাহ বয়সের ১৬টি কুকুরছানা মৃত অবস্থায় বন্দি! খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় একাধিক পশু প্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে এক জন এন্টালির বাসিন্দা অনিতা দাস বসাক ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্লাস্টিক ছিঁড়ে একের পর এক কুকুরছানার দেহ বার করে হাসপাতাল চত্বরে সার দিয়ে শুইয়ে রাখতে শুরু করেন। পরে জীবিত কুকুরটিকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও শুরু করেন অনিতা। আজ সকালে মৃত্যু হয়েছে সেটিরও।
(মারার ভিডিওটি এতই নৃশংস, সেটি প্রকাশ করা হল না।)
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/16-puppy-found-killed-in-nrs-hospital/