দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংরাজিতে একে বলে 'Sologamy'। আর উগান্ডার মেয়ের কাছে এটাই স্বপ্নকে ছোঁয়ার একমাত্র পথ। স্বপ্ন সে তো নিজেরই। সুখ-দুঃখ, জীবনের প্রতিটা লড়াই সেও নিজের। তাই বিয়েটা অন্য কাওকে কেন? দু'টি আত্মারই যদি মিলন হবে তাহলে নিজের সঙ্গেই নিজের হোক। নিজের স্বপ্নের সঙ্গে নিজের আশার, অথবা বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার।
যেটা আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ে যেটা ভাবতেই পারে না, সেটাই করে দেখিয়েছে উগান্ডার বছর ত্রিশের লুলু জেমাইমা। তবে সে কি সাধারণ নয়? একেবারেই সাধারণ, নিজেকে অসাধারণ ভাবতে ঘোর আপত্তি রয়েছে লুলুর। তার দু'চোখে শুধু স্বপ্ন। সে উড়তে চায়। থামতে চায় না মোটেই।
১৬ বছর বয়স থেকেই লুলুকে সৎপাত্রে দান করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন তার মা। এ দিকে মেয়ে মেধাবী। পড়াশোনায় তুখোড়। নামী দামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পড়ার ডাক আসছে। কিন্তু, মা-বাবা নাছোড়। বিয়েটা করতেই হবে। যোগ্যতা তো আছেই, এ বার মেয়ে সংসারী হলেই হয়।
https://twitter.com/Austynzogs/status/1049953816932691968
চেনা ছকের বিপরীতে চলাটাই বরাবরের পছন্দ লুলুর। মা-বাবার অনুরোধ রাখতে হবে, আবার নিজের স্বপ্নেরও গতি করতে হবে। তাই বিয়েটা করার সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলল লুলু। বিয়ে হবে অবশ্যই, তবে অন্য কোনও ব্যক্তিকে নয়। কেবলমাত্র নিজেকে। নিজের সঙ্গেই নিজের বোঝাপড়া। যেমনটা ভাবা তেমনটা কাজ। বাড়ির লোককে লুকিয়েই কার্ড ছাপানো হল। যদিও সেখানে বিয়েটা কার সঙ্গে হচ্ছে সেটা উহ্য রইল।
এসে গেল সেই দিন। অগস্টের ২৭। দুধসাদা বিয়ের গাউনে উজ্জ্বল কন্যা। মুখে হাসি। বাবা-মা আসেননি বিয়েতে। গুটিকয়েক আত্মীয় আর বন্ধুবান্ধব। অনুষ্ঠান শুরু হল। কিন্তু, পাত্র কই? সবাই অবাক। মৃদু হেসে রহস্যটা নিজেই ভাঙলেন লুলু। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী জানালেন, বিয়ে করছেন, তবে নিজেকে।
পরে অবশ্য মা-বাবার মান ভাঙিয়ে তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন কন্যা। জানিয়েছেন, বিয়ের জন্য এখনই প্রস্তুত নন তিনি। অতিথিরা সবাই হাসিমুখেই মেয়ের সাহসের প্রশংসা করেছেন। যদিও খানাপিনার খরচ তাঁদের নিজেদের গাঁটের কড়ি থেকেই দিতে হয়েছে।
লুলু আপাতত ফের মন দিয়েছে তার কাজে। নিজের সঙ্গে নিজে ভালোই ঘর করছে সে।