দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঋতুমতী কিনা পরীক্ষা করতে ভুজের কলেজের ৬৮ জন ছাত্রীর অন্তর্বাস খুলিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্লজ্জ আচরণে নিন্দায় মুখর হয়েছিল দেশ। সে ঘৃণার রেশ মেলায়নি। ফের এমনই এক বর্বরতার সাক্ষী হল গুজরাট। সুরাট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ১০০ জন মহিলা ট্রেনিকে হাসপাতালের একটি ঘরে সার বেঁধে নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হল। যোনিতে আঙুল ঢুকিয়ে গাইনির পরীক্ষা করলেন ডাক্তাররা।
মেডিক্যাল টেস্টের নামে এমন ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে সুরাটেরই একটি সরকারি হাসপাতালে। সূত্রের খবর, সদ্য পরীক্ষা দিয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এমন ১০০ জনকে বেছে এই গাইনি পরীক্ষার জন্য বাধ্য করা হয়। হাসাপাতালের একটি ঘরে তাঁদের জামাকাপড় খুলে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। দীর্ঘক্ষণ ওইভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার পরে তাঁদের অন্য একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্মী মিলিয়ে ১০ জন হাজির ছিলেন। সকলের সামনেই যোনিতে আঙুল ঢুকিয়ে গাইনির পরীক্ষা করা হয় যুবতীদের।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে নানা মহলে। এখনও ট্রমা থেকে বেরোতে পারেননি ওই মহিলা কর্মীরা। আতঙ্কে অফিস যেতেও ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। ওই মহিলাদেরই একজন বলেছেন, “চাকরিতে যোগ দেওযার পরে আমাদের ফিটনেস টেস্ট হবে বলা হয়েছিল। সুরাট মিউনিসিপ্যাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে নিয়ে গিয়ে আমাদের একটি ঘরে ঢুকিয়ে জামাকাপড় খুলতে বলা হয়। মানা করলে চাকরি যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। ওই ঘরের দরজাও ঠিকমতো বন্ধ করা ছিল না। ”
কুমারীত্বের চিহ্ন পরীক্ষা বা দুই আঙুলের পরীক্ষাকে আগেই বিতর্কিত ঘোষণা করা হয়েছে। কোনও মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা, তা বুঝতে দীর্ঘদিন ধরে দুই আঙুলের পরীক্ষার উপরেই নির্ভরতা রাখতেন ডাক্তাররা। যদিও এটি একটি অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। তাছাড়াও গাইনির পরীক্ষার জন্য ‘ফিঙ্গার টেস্ট’ করেন ডাক্তাররা, যেটা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে করা হয়। নির্যাতিত মহিলা কর্মীরা বলেছেন, এই পরীক্ষা বিজ্ঞানসম্মতভাবে হয়নি। এমনকি ডাক্তাররা অনেক অবিবাবিত মহিলাকেও জিজ্ঞেস করেছেন, তাঁরা আগে গর্ভবতী হয়েছেন কিনা। অভিযোগকারিনী মহিলাদের আরও দাবি, কোনও কোনও ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্মী তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। প্রতিবাদ করলে কড়া ভাষায় কথাও বলা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে।
ডাক্তারি পরীক্ষা করে বেরিয়ে অনেক মহিলাই লজ্জা আর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখনও অনেকেই ট্রমার মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন এসএমসি কর্মী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এএ শেখ। তিনি বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানালেও তাঁরা ওই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অশ্বিন ভাচানি সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে বলেছেন, মহিলা কর্মীদের জরুরি শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে। কোনওরকম অশ্লীলতা বা আপত্তিকর ঘটনা ঘটানো হয়নি।