
শেষ আপডেট: 4 October 2023 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাছের ঝোলে এত নুন কেন? তাই নিয়ে ঝগড়া একেবারে আদালত অবধি চলে গেছে। এমন মামলাও যে হতে পারে তা কস্মিনকালেও ভাবেননি বিচারক। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তিনি তখন শাশুড়ি-বৌমার ঝগড়া সামলাতে ব্যস্ত। শেষে বিচারকের মধুর বুলিতে মন ভিজল দুই যোদ্ধারই। ঝগড়া মিটিয়ে হাসিমুখে হাত ধরে বাড়ি ফিরলেন তাঁরা।
শাশুড়ি-বউয়ের সম্পর্ক মানেই তা অম্লমধুর। সব পরিবারেই সেই একই ছবি। শাশুড়ি-বউয়ের খিটিমিটি ঝগড়া লেগেই আছে। এ ডাইনে গেলে, ও বাঁয়ে যায়। কিন্তু এই পরিবারে ঝগড়া একেবারে আদালত অবধি চলে গিয়েছিল। তাও আবার মাছের ঝোল নিয়ে।
জামবনী থানার ঘুটিয়ে গ্রামের প্রমীলা রানা তাঁর বৌমার নামে সটান অভিযোগ ঠুকেছিলেন আদালতে। বৌমা ছবি রানা নাকি একেবারে জাঁদরেল মহিলা। সারাদিন কোমর বেঁধে ঝগড়া করতে আসে। এমন মুখরা বৌমার সঙ্গে কিছুতেই থাকতে পারছিলেন না বৃদ্ধা প্রমীলা। কথায় কথায় নাকি মুখ ঝামটা দিতেন ছবি। একবার বাড়ি থেকে বৃদ্ধাকে তাড়িয়েও দিয়েছিলেন। এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু তাই বলে সাধের মাছের ঝোলে এত নুন দিয়ে দেবে? এই ব্যাপারটা আর হজম হয়নি বৃদ্ধার কাছে। খেতে বসে নুনে পোড়া মাছের ঝোল কী আর মুখে তোলা যায়। আধপেটা খেয়ে বিষম রেগে বৃদ্ধা একেবারে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করে দেন। সেই সঙ্গে বৌমার নামে অভিযোগের লম্বা তালিকাও জমা দিয়ে আসেন। তারপর গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের আকনা গ্রামে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।
প্রমীলাদেবীর অভিযোগের ঠেলায় তড়িঘড়ি বৌমা ছবি রানাকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে দেন ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। আদালতের নোটিস দেখে ছবির তো চক্ষু চড়কগাছ। শেষে কিনা শাশুড়ি মামলা ঠুকে দিল! তেড়েমেড়ে তিনেও কোমর বেঁধে পৌঁছে যান আদালতে। তারপর দুপক্ষের সে কী ঝগড়া! হতভম্ব বিচারক সবটা শুনে শেষে ঝগড়া থামান বিশেষ কৌশলে।
ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের বিচারক তথা সচিব সুক্তি সরকার উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলার সমাধান করেন। পোড়া খাওয়া বিচারক বোঝেন শাস্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। তাতে সংসারটাই ভেঙে যাবে। তাই তিনি মধুর বাক্যে দুজনকেই ভাল করে বোঝান। শেষে দেখা যায়, আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের অফিস থেকে হাত ধরেই বেরোচ্ছেন প্রমীলা-ছবি। শাশুড়ির মুখে আর বউয়ের নিন্দা নেই। বরং গদগদ হয়ে তিনি বলছেন, “বৌমা খুবই ভাল। রান্না নিয়ে একটু ঝগড়া হয়েছিল। সেটা মিটে গেছে।” ছবিও স্বীকার করে নেন যে সেদিন নুন একটু বেশিই পড়ে গিয়েছিল। তাই শাশুড়ি রাগ করে মেয়ের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। তবে এখন আর কোনও সমস্যা নেই। সব ভাল যার শেষ ভাল তার।