দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনপ্রিয় বাংলা ছবি ‘এম.এল.এ ফাটাকেষ্ট’তে মিঠুন চক্রবর্তীর সেই অমর ডায়লগ মনে আছে? ‘আমি খবর দেখি না, খবর পড়ি না, খবর তৈরি করি।’ ঠিক সেই সুরই শোনা গেল জলাটান ইব্রাহিমোভিচের গলায়। যিনি মুখ খোলা মাত্রই তৈরি হয়ে যায় খবর। যেমনটা হলো সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।
চলতি মরশুমে ইব্রাহিমোভিচ ‘থিয়েটার অফ ড্রিমস’ ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন ট্রাম্পের দেশে। আর সেখানে গিয়ে কিনা খোদ ট্রাম্পকেই চ্যালেঞ্জ করে বসলেন ৩৬ বছরের এই সুইডিশ তারকা। প্রথম ম্যাচেই লস এঞ্জেলস গ্যালাক্সির হয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লস এঞ্জেলস ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে সমর্থকদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন জলাটান। আর তারপরেই এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে বললেন, “ আমেরিকার লোকেরা ভাগ্যবান আমি আর দশ বছর আগে এখানে আসিনি। নইলে এখন আমি আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হতাম।” তাঁর এই এক মন্তব্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে ফুটবল মহলে। কেউ বলছেন, তবে কি এ বার রাজনীতিতে নামবেন জলাটান। কারও সরস মন্তব্য, বিতর্কিত কথা বলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু এই আলটপকা মন্তব্যে ট্রাম্পকেও তিন গোল দিলেন ইব্রাহিমোভিচ।
https://www.youtube.com/watch?v=F98WTgN9jFg
তবে শুধু এই কথা বলেই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি। মার্কিন ফুটবলের সংস্কৃতি তিনি পালটাতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে জলাটান বলেন, “ আমার কাজ হলো ফুটবল খেলা। আমি সেটাই করতে এসেছি। মাঠে গিয়ে দেখলাম সমর্থকেরা চিৎকার করছে, আমরা জলাটানকে চাই, আমরা জলাটানকে চাই, আমি সমর্থকদের জলাটান উপহার দিলাম।”

শুধু এ দিনই নয়, এর আগেও ট্রাম্প আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ইব্রাহিমোভিচকে বলা হয়েছিল ট্রাম্পকে এক লাইনে ব্যাখ্যা করতে। তিনি বলেছিলেন, “আমি কেয়ার করি না”। যদিও ইব্রাহিমোভিচ মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা বললেও বাস্তবে সেটা হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। কারণ তাঁর বাবা বসনিয়ার ও মা ক্রোয়েশিয়ার। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মসনদে বসার জন্য তাঁর বাবা বা মা কাওকে মার্কিন মুলুকের হতে হতো।

কিন্তু কোন দিনই বা নিয়ম মেনে চলেছেন জলাটান। তাঁকে ছাড়া বিশ্বকাপ জৌলুসহীন বা দল শুধুমাত্র সাধারণ খেলোয়াড়দের জন্য তাঁর জন্য নয় এ ধরণের মন্তব্য করে আগেই বহুবার শিরোনামে থেকেছেন ইব্রাহিমোভিচ। তবে এ বার তিনি যা বললেন, তা ছাপিয়ে গেল তাঁর আগের সব মন্তব্যকেই।