
আশুতোষ শর্মা
শেষ আপডেট: 25 March 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন ক্রিকেটার। যিনি ছক্কা মারার জন্য নাম কুড়িয়েছেন। ৩২ ম্যাচে মেরেছেন ৬১ খানা ছক্কা।
একজন ক্রিকেটার যিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েও চার বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে নামতে পারেননি।
একজন ক্রিকেটার যাকে একবেলার খাবার জোগাড়ের জন্য আম্পায়ারিং পর্যন্ত করতে হয়েছে।
এবারের আইপিএলের ময়দানে নবজন্ম হয়েছে আশুতোষ শর্মার। আক্ষরিক অর্থে খাদের কিনারায় টলতে থাকা দিল্লি ক্যাপিটালসকে জয়ের সরণিতে টেনে এনেছেন। গতকালও যেন রীতি মেনেই পাঁচখানা ছক্কা ও পাঁচটি চার মেরেছেন। অনায়াসে। কিন্তু আশুতোষের জীবনের গল্প ছক্কা হাঁকানোর মতো এতটুকু সুগম নয়।
টিম ম্যানেজমেন্ট ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলিয়েছিল আশুতোষকে। মাঠে নামেন যখন, তখন ৬৬ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছে। তাড়া করতে হবে ২১০ রানের বিশাল স্কোর। গোড়ায় হাত সেট করতে সময় নেন। ২০ বলে ২০ রান করেন। ততক্ষণে আরও একটি উইকেটের পতন। জিততে দরকার ৬২ রান। হাতে মোটে ৫ ওভার। সেখান থেকে ১১ বলে ৪৬ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন আশুতোষ।
অথচ এই মহাকাব্যিক উত্থানের শুরুর গল্পটা ছিল অন্ধকারে ঢাকা। জন্ম মধ্যপ্রদেশের রাতলামে। ছোট শহর। ক্রিকেট প্রশিক্ষণের খুব একটা সুযোগসুবিধা ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান ইন্দোরে। থাকতে শুরু করেন ছোট একফালি ঘরে। অনেক সময় খাওয়ার টাকা থাকত না। তাই বাড়তি আয়ের জন্য আম্পায়ারিংয়ের রাস্তা বেছে নেন।
এই সময় সুযোগ আসে। রাজ্যের হয়ে খেলতে নামার সুযোগ। মুস্তাক আলি ট্রফিতে অংশ নেন। পরের মরশুমে করেন ২৩৩ রান। এরপর আরও উপরে ওঠার পালা। অথচ আচমকা বছর বাইশের ব্যাটসম্যান দল থেকে বাদ পড়েন। শুধু তাই নয়। কোনও এক অজানা কারণে চার বছর শীর্ষস্তরের কোথাও খেলার সুযোগ পর্যন্ত পাননি।
২০২৩ সালে ফের কামব্যাক করেন আশুতোষ। যদিও এবার মধ্যপ্রদেশ নয়, রেলওয়েজের জার্সি গায়ে ময়দানে নামেন তিনি। মঞ্চ সেই মুস্তাক আলি ট্রফি। আর এই একটি টুর্নামেন্ট তাঁর জীবন বদলে দেয়। ১১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড গড়েন আশুতোষ। পিঞ্চহিটার হিসেবে সুনাম কুড়োন। আইপিএলের মহা নিলামে নজরে আসেন পাঞ্জাব কিংসের। মাত্র ২০ লাখ টাকায় তাঁকে কিনে নেয় পাঞ্জাব শিবির।
গত মরশুমে ৯ ইনিংসে ১৮৯ রান করেছিলেন আশুতোষ। স্ট্রাইক রেট চোখধাঁধানো—১৬৭! আর এই সাফল্য এবং অনায়াসে ছক্কা মারার বিরল দক্ষতায় বাকি টিমগুলির র্যাডারে চলে আসেন উদীয়মাণ তরুণ ক্রিকেটার। ২০ লাখের দর এক লাফে উঠে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮০ লাখে। এই দামেই তাঁকে সই করায় দিল্লি ক্যাপিটালস।
গতকালের পারফরম্যান্সে এই আস্থার প্রতিদান দিলেন আশুতোষ শর্মা।