উৎপল চট্টোপাধ্যায়
সত্যিই ভারতীয় ক্রিকেটের লজ্জার দিন। ১০০-র নিচে যে কোনও দল টেস্টে অলআউট মানেই লজ্জার, আর এ তো ভরাডুবির ইতিহাস হয়ে লেখা থাকল। বীরেন্দ্র সেহওয়াগ দেখলাম টুইটারে রানগুলি ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে ‘ওটিপি’ লিখেছে।
বেশ মজার, রানগুলিকে সাজালে দেখা যাবে, ৪৯২০৪০৮৪০৪১। ওটিপি-রই মতো। এমনিতেই ভারতীয় দলের ওপেনিং সাজানো ঠিক হয়নি। ওপেনিং ভাল না খেলে দিলে মিডলঅর্ডারে চাপ আসে অবিরত, সেটাই ঘটেছে।
আর এই দুর্ঘটনা কোনও ব্রিজ ভেঙে পড়ার মতোই। প্রতিদিন ঘটে না, ২০ বছর একবার, কিংবা তারও বেশি সময় পরে আসে যে কোনও দলের ক্ষেত্রে। আর এমন একটা সময় হল, পরের টেস্ট থেকেই থাকবে না ভারত অধিনায়ক বিরাট। তিনি দেশে ফিরে আসবেন, তার আগে বিস্তর চাপে পড়ে গেল দল।
আইপিএলের প্রভাব ভারতীয় ক্রিকেটারদের ওপর পড়ল কিনা জানি না। তা যদি হবে তা হলে তো বিপক্ষ দলেও অনেক তারকা রয়েছে, যারাও খেলেছে আইপিএলে। একটা কারণ হতে পারে, দীর্ঘদিন দেশের ও ঘরের বাইরে থাকা। পরিবারের সঙ্গে নেই ক্রিকেটাররা প্রায় চার মাস হতে চলল। তার প্রভাব মনে পড়তে পারে। কতক্ষণে শেষ করে বাড়ি ফিরব, এই মানসিক সমস্যা থাকতে পারে।
আমি অবশ্য কোহলিদের এই ব্যর্থতায় কোচ রবি শাস্ত্রীর কথা বলব। তিনি কী করছেন, তাঁর কাজটি কী, আমি জানি না। দীর্ঘদিন ক্রিকেটাররা দেশের বাইরে থাকলে একজন কোচকেও মেন্টাল কন্ডিশনিংয়ের কাজটা করতে হয়। সবসময় তার জন্য মনোবিদ প্রয়োজন হয়, এটার কোনও ব্যাপার নেই।
তার চেয়ে বড় কথা, সিনিয়র দল যখন তাদের তো হাতেকলমে শেখানোর কোনও ব্যাপার থাকে না, তাদের কৌশলগত ত্রুটি বিচ্যুতি দেখিয়ে দিতে হয় কোচকে। আমার মনে হয় সেই খানে একটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে এই ভারতীয় দলে।
দলের অধিনায়কের সঙ্গে থেকে একটা পারফরম্যান্স গ্রাফ তৈরি করা। বিদেশী দলের ক্রিকেটারদের হোমওয়ার্ক, কাদের জন্য কীরকম কৌশল হবে, সেটি ঠিক করেন কোচ। তিনি শুধু দলের খেলা দেখবেন ড্রেসিংরুমে বসে, আর কেউ ফিরলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে দায়িত্ব পালন করবেন, সেটাই একমাত্র কাজ নয়।
একটা দল সফল হলে যেমন কোচের কৃতিত্ব থাকে, আবার ব্যর্থ হলেও। আর যেখানে একটি দল অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ৩৬ রানে শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে তো কোচের কাজ নিয়েও কথা হবেই।