দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ফুটবলে চরম অশান্তি। আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের নজিরবিহীন ইস্তফায় প্রবল অস্বস্তিতে সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মানভঞ্জন করতে সচিবকে অনুরোধ করবেন। কিন্তু বিদ্রোহী জয়দীপ ওইসব কানে দেবেন বলে মনে হচ্ছে না। কারণ তিনি নিজের যুক্তিতে ঠিক, সেটাই শুরু থেকে দাবি করে আসছেন।
জয়দীপ এদিন রাতে দ্য ওয়াল-কে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘‘আমার কোনও পদের মোহ নেই, যা এতদিন ছিল আইএফএ-র পূর্বতন সচিবদের। আমি চেয়ারে বসে শোভা বাড়াতে আসিনি, আমি কাজ করতে এসেছি, যদি কাজই না করতে পারি, তা হলে থাকব কেন?’’
কেন তিনি কাজ করতে পারছেন না? সচিব বলেছেন, ‘‘ময়দানে কন্যাশ্রী কাপ নিয়ে ইস্টবেঙ্গল অবৈধ ফুটবলার খেলিয়েছে, সেটি আমি মানতে চাইনি। সেই নিয়ে আমি চেয়েছিলাম ইস্টবেঙ্গলকে সতর্ক করে শাস্তি দেব। কিন্তু সেটি করতে গেলে আমাকে নানাভাবে অপদস্থ হতে হবে। কারণ আমি এতে সভাপতির সমর্থন পাব না, তাই আমি চাই না সচিব হয়ে বসে থাকতে।’’
জয়দীপ আরও বলেছেন, ‘‘অন্য কেউ হলে অফিস থেকে বেরিয়ে আর যেত না ওখানে। আমি নিজে থেকেই ফেডারেশনকে বলেছি জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আমি আইএফএ-তে থাকব। আই লিগের ম্যাচ শেষ হয়ে গেলে আমি চলে যাব।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘‘শুধু আমি নয়, যা ভাবে সব চলছে, তাতে সংস্থার সহ সভাপতিরাও একযোগে সরে যাবে। কারণ কেউই কাজ করে শান্তি পাচ্ছে না। ওরাও ইস্তফাপত্র তৈরি করছে।’’
যাঁর নামে অভিযোগ তিনি একাধারে বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, তিনি আবার মুখ্যমন্ত্রীর দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়দীপ বলছেন, ‘‘বিসিসিআই-তে যদি এক ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন পদে থাকতে পারবে না বলে নিয়ম থাকে, ফুটবলে কেন থাকবে না? স্বার্থের সংঘাত সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’’
ময়দানে অন্য জল্পনা চলছে, অজিত তাঁর ভাইকে আইএফএ-তে আনার জন্যই নানাভাবে জয়দীপকে হেনস্থা করছেন। সেটি জয়দীপ বুঝতে পেরেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এই অবস্থায় যিনি পরিচালকের ভূমিকা নিতে পারতেন, আইএফএ-র চেয়ারম্যান তথা ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত বলেছেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলব না।
তাঁর মৌনব্রত কিসের লক্ষ্মণ, ঠিক বোঝা যায়নি। কিন্তু আইএফএ-র বিদায়ী সচিব জানিয়েছেন, ‘‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আইএফএ-তে স্পনসর এনেছি। কর্মীদের বেতনে হাত দিতে দিইনি। আইএফএ শিল্ড করে দিতে পেরেছি। রেফারিদের সব বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দিতে পেরেছি। এই অল্পসময়ে আর কী করতে পারি?’’
এদিকে সচিবের মান ভাঙাতে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান সভাপতি অজিতবাবু। তিনি বলেছেন, ‘‘জয়দীপ আমার ভাইয়ের মতো, হয়তো কোনও বিষয়ে আমার নামে ভুল বুঝেছে, তাই এত বড় সিদ্ধান্ত নিল। আমি ওকে ফেরাতে মরিয়া হয়ে লড়ব।’’
যেহেতু আইএফএ সভাপতি ইস্টবেঙ্গলের কর্মসমিতিতে রয়েছেন, তিনি এমনিতেই স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে গিয়েছেন। তাই ইস্টবেঙ্গল নিয়ে কোনওরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তিনি নিতে পারবেন না, সেটিই কথা প্রসঙ্গে সর্বত্র উঠে আসছে।