মোহন মাঝমাঠে মিশরীয় ঝলকানি, লাজংকে হারিয়ে লিগের লড়াইয়ে দুরন্ত কামব্যাক বাগানের
দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার চেন্নাইকে হারিয়ে লিগের লড়াই জমিয়ে দিয়েছিল রিয়েল কাশ্মীর। সুবিধা করে দিয়েছিল লাল-হলুদের। কিন্তু এ বার লিগ টেবিলের দলগুলোর পয়েন্টের ব্যবধান এতটাই কম, যে অনেকটা পিছনে থেকেও রবিবাসরীয় যুবভারতীতে শিলং লাজংকে ২-০ গোলে হার
শেষ আপডেট: 23 December 2018 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার চেন্নাইকে হারিয়ে লিগের লড়াই জমিয়ে দিয়েছিল রিয়েল কাশ্মীর। সুবিধা করে দিয়েছিল লাল-হলুদের। কিন্তু এ বার লিগ টেবিলের দলগুলোর পয়েন্টের ব্যবধান এতটাই কম, যে অনেকটা পিছনে থেকেও রবিবাসরীয় যুবভারতীতে শিলং লাজংকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফের চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ঢুকে পড়ল মোহনবাগান।
ঘরের মাঠে এ দিন তিন পয়েন্ট পাওয়ার জন্য শুরু থেকেই ঝাঁপিয়েছিল মোহনবাগান। নিজেদের মধ্যে বল ধরে ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠছিলেন ওমর, ইয়ুটারা। বলই পাচ্ছিলেন না লাজংয়ের খেলোয়াড়রা। দুই প্রান্ত ধরে আক্রমণ তুলে এনেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি বাগান। ১২ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে বল ধরে ডিকার গড়ানো শট ভালো বাঁচান লাজং গোলকিপার টেম্পা। ১৯ মিনিটের মাথায় আম্বেকরের ক্রস থেকে ওমরের ডান পায়ের জোরালো শট আরও একবার ভালো বাঁচান টেম্পা।
বারবার আক্রমণে উঠলেও অ্যাটাকিং থার্ডে এসে সব আক্রমণ খেই হারিয়ে ফেলছিল। এর মধ্যেই ২১ মিনিটের মাথায় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় সৌরভ দাসকে তুলে মেহতাবকে নামান শঙ্করলাল। মাঝেমধ্যে প্রতিআক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেন স্যামুয়েল, লিংডোরা। কিন্তু দু পক্ষই গোলের মুখ খুলতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আজহারউদ্দিনের জায়গায় ফৈয়াজকে নামান শঙ্করলাল। ৪৮ মিনিটের মাথায় আম্বেকরের ক্রস থেকে ফিরতি বলে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন ইয়ুটা কিনোওয়াকি।
গোল খেয়ে কিছুটা আক্রমণে ওঠে লাজং। ৫২ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে থেকে স্যামুয়েলের শট দারুণ বাঁচান বাগান গোলকিপার শঙ্কর রায়। শঙ্করের এই সেভই বলতে গেলে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। কারণ সেই মুহূর্তে গোল খেয়ে গেলে ম্যাচে ফেরা কঠিন হতো বাগানের। আক্রমণ প্রতিআক্রমণের খেলা চলতে থাকে। ৬০ মিনিটের মাথায় লাজং ডিফেন্ডারদের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান বাড়ান হেনরি কিসেকা। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাগান।
তারপরেও ব্যবধান বাড়ানোর জন্য আক্রমণ চালাতে থাকে বাগান। বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেন ডিপান্ডা ডিকা। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরার পর ডিকা এই ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগালে হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। গোটা মাঠ জুড়ে দাপিয়ে খেললেন মিশরীয় ওমর। ডিফেন্স থেকে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ, সব জায়গায় ফুল ফোটালেন ওমর। সব আক্রমণগুলোই হলো মূলত তাঁর পা থেকে। বেশিক্ষণ বল পায়ে রেখে খেলার চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। কাউন্টার পাস ও ব্যাক পাস দেখে মাঝেমধ্যে অধৈর্য হয়ে পড়ছিলেন মোহন সমর্থকরা।
৭৩ মিনিটের মাথায় ওমরের মাইনাসে ফাঁকা গোলের সামনে বল ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন ডিকা। পরের মিনিটেই কিসেকার শট ঝাঁপিয়ে বাচান টেম্পা। লাজংও গোলশোধের আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। কিন্তু সব আক্রমণ ধরা পড়ে যাচ্ছিল বাগান গোলকিপার শঙ্করের দস্তানায়। ৯০ মিনিটের মাথায় ডিকার ক্রসে কিসেকার টোকা সরাসরি গোলকিপারের গায়ে লাগে।
এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে পাঁচ নম্বরে উঠে এল বাগান। সামনে চেন্নাই সিটি এফসি, রিয়েল কাশ্মীর, ইস্টবেঙ্গল ও নেরোকা। ডার্বি হারের পর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন বাগান সমর্থকরা। কিন্তু পরপর দুই ম্যাচে জয় পেয়ে ফের লিগের লড়াইয়ে দারুণভাবে ফিরে এল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।