দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতে কাজের দিন। তার উপর ভ্যালেন্টাইনস ডে। কিন্তু নেরোকা ম্যাচে ৩৪ হাজার সমর্থক মাঠে আসার পর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্লোগান তুলেছিলেন, ‘লাজং ম্যাচে ৪০ হাজার হয়ে যাক!”
সেটা না হলেও বেশ কয়েক হাজার সমর্থক বৃহস্পতিবার সন্ধে বেলা গিয়েছিলেন যুবভারতীর গ্যালারিতে। কারণ তাঁদের ভ্যালেন্টাইন তো লাল-হলুদই। দৃষ্টিনন্দন ফুটবল আর গোলের বন্যায় ভেসে গেল বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ৫-০ গোলে লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারাল ইস্টবেঙ্গল।
ডিকার বাঁক খাওয়ানো কর্ণারটা মাথায় এসে পড়ল ডানমাওয়াইয়া রালতের। ঠিক আট মিনিটের মাথায়। মুহূর্তের মধ্যে জালটা নড়ে নড়ে উঠল চিকচিক করে। ১-০।
তারপর পাহাড়ি দলের বিরুদ্ধে পাহাড়ি ছেলেটাই যেন বারুদের ঝলকানি দেখাল। ২৭ মিনিটে লাজং বক্সের ঠিক বাইরে মাঝ মাঠ থেকে আসা থ্রু রিসিভ করেন ডানমাওয়াইয়া। লাজং গোলরক্ষক তখন গোল লাইন থেকে খানিকটা এগিয়ে। রিসিভ করেই সেকেন্ডের ভগ্নাংশে বলটাকে চিপ করে দেন ডান। জড়িয়ে যায় জালে। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজের দল।
এর ঠিক পরের মিনিটেই এনরিকের গোলমুখী শট গোলে ঠেলে দিয়ে ৩-০ করেন কেরলের তারকা জবি জাস্টিন। এই আই লিগে ৯টি গোল হয়ে গেল বিজয়নের রাজ্যের এই স্ট্রাইকারের।
৪৪ মিনিট। একটা উঁচু বল বুকে রিসিভ করেই শরীরটাকে হাফটার্ন করে সেকেন্ড পোস্টে বল রাখেন এনরিকে এসকুইদা। ঘাড়ে চোটের কারণে এ দিন ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজ প্রথম একাদশে রাখেননি কোলাডোকে। শুরু থেকেই জবি জাস্টিনের সঙ্গে স্ট্রাইকার হিসেবে নামেন মেক্সিকান তারকা এনরিকে। চার গোলে এগিয়ে থেকেই লকার রুমে যায় লাল-হলুদ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই কয়েকটি পরিবর্তন করেন স্প্যানিশ কোচ। চুলোভার জায়গায় নামান সামাদ আলি মল্লিককে। এনরিকেকে বসিয়ে নামান স্যান্টোস কোলাডোকে। ৬১ মিনিটে কোলাডোর ঠিকানা লেখা মাইনাস থেকেই দলের হয়ে ৫-০ করে নিজের হ্যাট্রিক সেরে নেন ডানমাওয়াইয়া।
এই ম্যাচ জয়ের ফলে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট দাঁড়াল ১৫ ম্যাচে ৩১। পরের ম্যাচ রবিবার চার্চিলের বিরুদ্ধেই। ওই ম্যাচ জিতলেই পয়েন্টের বিচারে চেন্নাইকে ছুঁয়ে ফেলবে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব। স্বপ্নে বুঁদ লাল-হলুদ জনতা।