দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোহনবাগান অন্তপ্রাণ ছিলেন রিঙ্কু দাস। প্রিয় দলের খেলা কোনওদিন মিস করতেন না। বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় নিজের ট্রাইসাইকেলে চেপে পাড়ি দিতেন মাঠে। সঙ্গে থাকত সবুজ-মেরুন পতাকা। কখনও সঙ্গী হত রিঙ্কুর ছেলে। গ্যালারির সবাই তাঁকে চিনতেন। কিন্তু চার্চিলের বিরুদ্ধে বাগানের হাইভোল্টেজ ম্যাচের দিন সকালেই একরাশ দুঃখ নিয়ে খবরটা আসে বাগান সমর্থকদের কানে। আত্মহত্যা নাকি করেছেন রিঙ্কু দাস। কিন্তু দুপুরের দিকেই জানা গেল রিঙ্কুর মৃত্যু নিয়ে উঠছে অসংখ্য প্রশ্ন।
ঠিক কী হয়েছিল?
শনিবার সকালে ময়দান সংলগ্ন একটি গাছ থেকে উদ্ধার হয় রিঙ্কুর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশের কাছে খবর পান তাঁর পরিবার। বাড়িতে স্ত্রী নমিতা ও সাত বছরের ছেলে আদিত্যকে রেখে রিঙ্কু পাড়ি দিয়েছেন পরলোকে। কী কারণে আত্মহত্যা করলেন রিঙ্কু? পরিবার সূত্রে খবর, আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না রিঙ্কুর। তাই পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত। শুক্রবার দুপুরে ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার পরে বেরিয়ে যান রিঙ্কু। রাতে আর ফেরেননি। শনিবার সকালে তাঁর দেহ পাওয়ার খবর দেয় পুলিশ।
এরপরেই প্রশ্ন তুলছে পরিবার। যে লোকটা নিজের ট্রাইসাইকেল ছাড়া এক পাও চলতে পারতেন না, তিনি কী ভাবে গাছে উঠে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন? এর পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই তো? এই ব্যাপারে ডিসি সাউথ মিরাজ খালিদ বলেছেন, "হেস্টিংস থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে তবেই কিছু বলা যাবে। গলায় একটা দাগ রয়েছে। তবে রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাচ্ছে না।"
গত ১৯ জানুয়ারি ডার্বি দেখতে যাওয়ার সময় ছোট একটা দুর্ঘটনা হয়েছিল ৪২ বছরের রিঙ্কুর। তারপরেই তাঁর বিষয়টা নজরে আসে বাগান কর্তাদের। বাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু তাঁকে একটি নতুন ট্রাইসাইকেল কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা আর হল না। শনিবার গোয়াতে মোহনবাগান চার্চিল বধ করলেও বাগান সমর্থকদের মন তাই অনেকটাই ভারাক্রান্ত। একজন সবুজ-মেরুন অন্তপ্রাণ সমর্থক যে এদিন আর আনন্দ করতে পারলেন না।