
মোহিত শর্মা
শেষ আপডেট: 16 April 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাকালে বলে থুতু লাগানোর নিয়মে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আইসিসি। সংক্রমণ এড়াতেই এই নিয়ম বলবৎ হয়েছিল। এই সম্প্রতি অনেক বোলার সম্প্রতি মুখ খোলেন। সরব হন মহম্মদ সামির মতো বোলার। আওয়াজ তোলেন: লালা না লাগানোর জেরে বল আর আগের মতো রিভার্স সুইং হচ্ছে না। ফলে পেসাররা মার খাচ্ছেন। তাঁদের অধিকার খর্ব হচ্ছে।
চলতি আইপিএলে যদিও এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে, সিমারদের একটা বড় অংশ। যারা পুরনো বলে রিভার্স সুইংকে অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগিয়ে এসেছেন। তাঁদেরই একজন মোহিত শর্মা। যিনি যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, থুতু ব্যবহার চালু হওয়ার ফলে বল ফের আগের মতোই বাঁক নিচ্ছে। সিমাররা এর একশো শতাংশ সুফল পাচ্ছেন।
দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে চলতি মরশুমে মাঠে নামছেন মোহিত। থুতু-বিতর্কে তিনি বলেন, ‘এখন ৭০ শতাংশ ম্যাচে বল ভেতরে সুইং খেয়ে ঢুকছে। আর এটা হচ্ছে তার কারণ বলে থুতু ঘষা হচ্ছে। আগে ঘাম লাগানো হত। কিন্তু থুতু ঘামের চাইতে ভারী। ফলে থুতু-ঘষা বলও ভারী হয়ে উঠছে। আর সেটা ভেতরে সুইং করছে। ইদানীং মাঠে খুব একটা শিশির পড়ে না। ফলে থুতু সুইংয়ের জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী হয়ে উঠেছে।‘
প্রসঙ্গত, থুতু লাগানোর নিয়ম রদ করা হয় ২০২০ সালে। সেটা ছিল সাময়িক। দু’বছর বাদে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই নিয়ম পাকাপাকিভাবে বলবৎ হয়। প্রথমে মহম্মদ সামি একা এর বিরুদ্ধে মুখ খুললেও পরে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার। সলিল আঙ্কোলা, প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক, তাঁদের একজন। সলিল বলেন, ‘এই ব্যান এখনই উঠে যাওয়া উচিত। আমি সামির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত। এখন সবকিছু ব্যাটসম্যানদের পক্ষে চলছে। কিছু জিনিস অন্তত বোলারদের পক্ষেও থাকা প্রয়োজন।‘
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘এই মরশুমে রঞ্জি টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্য দিতে গিয়েও আমি এই বিষয়টা নিয়ে বলেছি। বলে লালা ব্যবহার শতাব্দী প্রাচীন। ১৯২০ সালে অতিমারি এসেছিল, তখনও ক্রিকেট খেলা হত, বলে বোলাররা থুতু মাখতেন। কিন্তু সেই নিয়ম রদ করা হয়নি।‘
উপমহাদেশের বাইরের বোলারদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদিও সামির হয়ে সওয়াল করেন। বলেন, ‘বোলার হিসেবে আমি অবশ্যই একটা অ্যাডভান্টেজ নিতে চাইব। এখন আকছার ৩০০ বা তারও উপর রান উঠছে। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩৬২ রান তুলেছে। ফলে বোলারদের জন্যও কিছু থাকা উচিত। জানি না এটা ফিরিয়ে আনতে আইসিসির অসুবিধে কোথায়।‘
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ভের্নন ফিলান্ডারের মতে, রিভার্স সুইং বোলারদের একটা বাড়তি অস্ত্র। ম্যাচের শেষ দিকে বল যখন পুরোনো হয়ে গিয়েছে, তার চাকচিক্য তেমন নেই, তখন তাতে থুতু লাগালে রিভার্স সুইংয়ের সুযোগ বাড়ে। ফলে এই কৌশল এখনই চালু করা জরুরি।
ইদানীং ক্রিকেট ব্যাটার-প্রধান, বোলারদের দিকে তেমন নজর দেওয়া হয় না, খেলা হয় পাটা পিচে, রান ওঠে প্রচুর, এমনকী ফিল্ডিংয়ের বাঁধাবাঁধি নিয়ে যে কানুন আনা হচ্ছে—সবই বোলারদের বিপক্ষে গেছে। চলতি বিতর্কে সামির পক্ষ নেওয়া ক্রিকেটাররা তাই রিভার্স সুইংকে সামনে রেখে আদতে পেসারদের গুরুত্বকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।
যদিও থুতু রদের নির্দেশিকা তোলার আগে সতর্কতা নেওয়া জরুরি। পাল্টা পক্ষ নিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় বোলার ভেঙ্কটেশ প্রসাদ। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টা গুরুত্ব নিয়ে বিবেচনা করা উচিত। নতুন ভাইরাস কবে, কীভাবে হানা দেবে কেউ জানে না। তাই বোলারদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংক্রমণ ও পরিচ্ছন্নতার ইস্যু মাথায় রাখতে হবে।