
শেষ আপডেট: 23 July 2018 07:07
রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে জার্মানির বিদায়ের পর সব দোষ এসে পরে ওজিলের ঘাড়ে। জার্মান সমর্থক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ সবাই প্রকাশ্যে ওজিলকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করতে থাকেন। খেলার মাঠেই সমর্থকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় ২৯ বছরের এই আপাত শান্ত মিডফিল্ডারকে। শেষ পর্জন্ত এই অপমান সহ্য করতে পারলেন না। রবিবার রাতে নিজের টুইটারে ঘোষণা করেন অবসরের কথা। কিন্তু সেই সঙ্গে উগড়ে দেন, তাঁর ভেতরের ক্ষোভ, দুঃখ, অপমানের জ্বালা।
জার্মানির হয়ে প্রথম থেকে খেললেও ওজিলের জন্ম তুরস্কে। মুসলিম ধর্মের হওয়ায় জার্মানিতে বরাবরই ওজিলকে শুনতে হয়েছে বর্ণবিদ্বেষী কথা। তাঁর বক্তব্য, 'তুরস্কের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার দেখা করা নেহাতই সৌজন্য বিনিময়। আমি জন্মের পর থেকেই একটা দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। আমি ট্যাক্স দিই জার্মানিতে। আমার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কাজ হয় জার্মানিতে। কিন্তু তার পরেও জার্মানি আমাকে আপন করে নিতে পারল না।'
https://twitter.com/MesutOzil1088/status/1020984884431638528
জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গ্রিন্ডেলকে একহাত নিয়ে ওজিল বলেন, ' যখন আমি দেশের হয়ে জিতেছি তখন আমাকে বলা হয়েছে জার্মান। কিন্তু যখন হেরেছি তখন বলা হয়েছে আমি অভিবাসী। কই আমার খুব ভালো বন্ধু লুকাস পোডোলস্কি বা মিরোস্লাভ ক্লোসেকে তো কোনও দিন শুনতে হয়নি তাঁরা জার্মান-পোলিশ। তাহলে আমাকে কেন শুনতে হবে আমি জার্মান-টার্কিশ। যে দেশের ফুটবলের মাথায় গ্রিন্ডেলের মতো বর্ণবিদ্বেষী লোক বসে আছেন, সেই দেশের ফুটবলের কাছে আমার আর কিছু প্রত্যাশা নেই। আমাকে এই সব শুনতে হলো তার কারণ কি আমি মুসলিম বলে?'
https://twitter.com/MesutOzil1088/status/1021017944745226242
ওজিল বলেন, 'এই দেশের জন্য আমি আমার সবটা নিংড়ে দিয়েছি। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার যন্ত্রণা বাকিদের মতো আমার কাছেও এক। কিন্তু আমাকেই সব দায় নিতে হলো। এত অপমান সহ্য করে আর জার্মানির জার্সি আমি পড়তে পারব না। তাই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আমি অবসর নিলাম।'
https://twitter.com/MesutOzil1088/status/1021093637411700741
প্রসঙ্গত, এমন সময় ওজিল আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন, যখন ক্লাব স্তরে আর্সেনাল রেকর্ড মূল্যে তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়েছে। ওজিলই প্রথম নন, এর আগেও বিশ্ব ফুটবলে দেখা গিয়েছে এই ঘটনা। ফরাসী কোচ দিদিয়ের দেশঁও করিম বেঞ্জেমা বা সমির নাসরির মতো ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা মুসলিম ধর্মের হওয়ায় তাঁদের ফ্রান্সের দলে অন্তর্ভুক্ত করেননি। একদিকে যেখানে ফুটবলে সব বাধা-ব্যবধান-বৈষম্য ধুয়ে মুছে যায়, সেখানেই ওজিলের মতো প্রতিভাদের এ ভাবে অবসর যেন কালি লেপে দেয় সমাজের মুখে, প্রকাশ করে বর্ণবৈষম্যের নগ্ন চেহারাকেই।