Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিংয়ে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দ

'আমার দোষ আমি মুসলিম?' অবসরের সিদ্ধান্তে বিস্ফোরক মেসুট ওজিল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আমার কি এটাই দোষ যে আমি মুসলিম?' 'যে দেশের হয়ে নিজের সবটা নিংড়ে দিলাম, সেই দেশের লোকেরা আমাকেই হারের জন্য দায়ী করল।' 'এই অপমান সহ্য করতে না পেরে জার্মানির হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আমি অবসর নিলাম।' নিজের টুইটারে বিস্ফোরক

'আমার দোষ আমি মুসলিম?' অবসরের সিদ্ধান্তে বিস্ফোরক মেসুট ওজিল

শেষ আপডেট: 23 July 2018 07:07

দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আমার কি এটাই দোষ যে আমি মুসলিম?' 'যে দেশের হয়ে নিজের সবটা নিংড়ে দিলাম, সেই দেশের লোকেরা আমাকেই হারের জন্য দায়ী করল।' 'এই অপমান সহ্য করতে না পেরে জার্মানির হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আমি অবসর নিলাম।' নিজের টুইটারে বিস্ফোরক মেসুট ওজিল। বরং বলা ভালো, প্রাক্তন জার্মান ফুটবলার মেসুট ওজিল। ২০১৪ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন জার্মান মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। দেশকে বিশ্বকাপ এনেও দিয়েছিলেন। তারপরেও জার্মান সমর্থকরা তাঁকে কখনোই নেক নজরে দেখেননি। তাই ক্লাব ফুটবলে প্রথমে স্পেন তারপর ইংল্যান্ডে খেলেছেন ওজিল। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই মে মাসে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ এর্ডোগানের সঙ্গে দেখা করেন ওজিল। সেই ছবি বেরানোর পরেই জার্মানিতে তাঁকে নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এমনকী জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেইনহার্ড গ্রিন্ডেল তো জোয়াকিম লো'কে বলেছিলেন ওজিলকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে না রাখতে। রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে জার্মানির বিদায়ের পর সব দোষ এসে পরে ওজিলের ঘাড়ে। জার্মান সমর্থক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ সবাই প্রকাশ্যে ওজিলকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করতে থাকেন। খেলার মাঠেই সমর্থকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় ২৯ বছরের এই আপাত শান্ত মিডফিল্ডারকে। শেষ পর্জন্ত এই অপমান সহ্য করতে পারলেন না। রবিবার রাতে নিজের টুইটারে ঘোষণা করেন অবসরের কথা। কিন্তু সেই সঙ্গে উগড়ে দেন, তাঁর ভেতরের ক্ষোভ, দুঃখ, অপমানের জ্বালা। জার্মানির হয়ে প্রথম থেকে খেললেও ওজিলের জন্ম তুরস্কে। মুসলিম ধর্মের হওয়ায় জার্মানিতে বরাবরই ওজিলকে শুনতে হয়েছে বর্ণবিদ্বেষী কথা। তাঁর বক্তব্য, 'তুরস্কের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার দেখা করা নেহাতই সৌজন্য বিনিময়। আমি জন্মের পর থেকেই একটা দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। আমি ট্যাক্স দিই জার্মানিতে। আমার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কাজ হয় জার্মানিতে। কিন্তু তার পরেও জার্মানি আমাকে আপন করে নিতে পারল না।' https://twitter.com/MesutOzil1088/status/1020984884431638528 জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গ্রিন্ডেলকে একহাত নিয়ে ওজিল বলেন, ' যখন আমি দেশের হয়ে জিতেছি তখন আমাকে বলা হয়েছে জার্মান। কিন্তু যখন হেরেছি তখন বলা হয়েছে আমি অভিবাসী। কই আমার খুব ভালো বন্ধু লুকাস পোডোলস্কি বা মিরোস্লাভ ক্লোসেকে তো কোনও দিন শুনতে হয়নি তাঁরা জার্মান-পোলিশ। তাহলে আমাকে কেন শুনতে হবে আমি জার্মান-টার্কিশ। যে দেশের ফুটবলের মাথায় গ্রিন্ডেলের মতো বর্ণবিদ্বেষী লোক বসে আছেন, সেই দেশের ফুটবলের কাছে আমার আর কিছু প্রত্যাশা নেই। আমাকে এই সব শুনতে হলো তার কারণ কি আমি মুসলিম বলে?' https://twitter.com/MesutOzil1088/status/1021017944745226242 ওজিল বলেন, 'এই দেশের জন্য আমি আমার সবটা নিংড়ে দিয়েছি। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার যন্ত্রণা বাকিদের মতো আমার কাছেও এক। কিন্তু আমাকেই সব দায় নিতে হলো। এত অপমান সহ্য করে আর জার্মানির জার্সি আমি পড়তে পারব না। তাই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আমি অবসর নিলাম।' https://twitter.com/MesutOzil1088/status/1021093637411700741 প্রসঙ্গত, এমন সময় ওজিল আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন, যখন ক্লাব স্তরে আর্সেনাল রেকর্ড মূল্যে তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়েছে। ওজিলই প্রথম নন, এর আগেও বিশ্ব ফুটবলে দেখা গিয়েছে এই ঘটনা। ফরাসী কোচ দিদিয়ের দেশঁও করিম বেঞ্জেমা বা সমির নাসরির মতো ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা মুসলিম ধর্মের হওয়ায় তাঁদের ফ্রান্সের দলে অন্তর্ভুক্ত করেননি। একদিকে যেখানে ফুটবলে সব বাধা-ব্যবধান-বৈষম্য ধুয়ে মুছে যায়, সেখানেই ওজিলের মতো প্রতিভাদের এ ভাবে অবসর যেন কালি লেপে দেয় সমাজের মুখে, প্রকাশ করে বর্ণবৈষম্যের নগ্ন চেহারাকেই।  

```