
চেন্নাইয়ের মাঠে দুরন্ত নাইট বোলাররা।
শেষ আপডেট: 26 May 2024 21:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদ দলের হলটা কী! যে দলটি চলতি আইপিএলে দুইবার সর্বোচ্চ রানের নজির গড়েছে, তাদের ফাইনালে এসে এই হাল কেন? সেই নিয়ে সারা দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। হায়দরাবাদ দলের ব্যাটাররা পুরোপুরি কেকেআর বোলারদের সামনে ফাইনাল ম্যাচে আত্মসমর্পণ করেছেন। ৭৭ রানে সাত উইকেট পড়ে যাওয়ার পরে আর কীই বা পড়ে থাকতে পারে। আইপিএল ফাইনালে এটি রেকর্ড, অতি কম রানে ইনিংস শেষ করল হায়দরাবাদ।
ফাইনালে মাঠে দলের মালিক অসুস্থ শাহরুখ খানের সামনে বোলাররা রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন। স্পিনার সুনীল নারিন শেষ ওভারে একটি উইকেট নিয়েছেন। নারিন তিন ওভারে প্রথম স্পেলে ১১ রান দিয়েছেন, এটাই বা কম কিসের। নাইট বোলারদের মধ্যে কার কথা আলাদাভাবে বলব। মিচেল স্টার্ক থেকে শুরু। তারপর দলের বাকি বোলাররাও নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। দলের তিন পেসার, এমনকী বাড়তি পেসার রাসেলও তিন উইকেট নিয়ে বিপক্ষ শিবিরে ভাঙন ধরিয়েছেন। হায়দরাবাদ শেষ করল ১১৩ রানে। নাইটদের জয়ের লক্ষ্য ১১৪ রানের।
হায়দরাবাদ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান অধিনায়ক কামিন্সের (২৪)। তিনি রুখে না দাঁড়ালে ১০০-র আগেই শেষ হয়ে যেত তারা। আজ নাইট বোলারদের দিন। তাঁদের বোলিং ঝড়ে কাবু বিপক্ষ দল। মাত্র চারজন ব্যাটার দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পেরেছেন। কেকেআর বোলারদের মধ্যে উইকেট নিয়েছেন সব বোলারই। রাসেল তিন উইকেট নিয়েছেন ১৯ রানে, তাও তাঁকে তিন ওভার হাত ঘোরাতে হয়নি।
তিন ওভারের মধ্যেই হায়দরাবাদের দুটি উইকেট পড়ে গিয়েছিল নিজামের শহরের দলের। প্রথমে মিচেল স্টার্ক বোল্ড আউট করে দেন ওপেনার অভিষেক শর্মাকে। তারপরেই ট্রাভিস হেড ফেরেন বৈভব অরোরার বলে। ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক গুরবাজের হাতে।
শুরুতেই চেন্নাই ফাইনালে ঝড় বইয়ে দিয়েছেন নাইট পেসাররা। মিচেল স্টার্ক প্রথম ওভারেই তুলে নিয়েছেন অভিষেককে। তিনি করেন দুই রান। আর ট্রাভিস করেছেন শূন্য। এমনকী তিনে নামা রাহুল ত্রিপাঠিকেও ফেরালেন স্টার্ক। রাহুল করেছেন নয় রান। ২১ রানের মধ্যে তিন উইকেট পড়ে গিয়েছে হায়দরাবাদের। কেকেআরের তিন পেসারই দুরন্ত মেজাজে। হায়দরাবাদের নীতিশ কুমার রেড্ডিকে (১৩) তুলে নিলেন হর্ষিত রাণা। কট বিহাইন্ড গুরবাজ। চার উইকেট পড়ে গিয়েছিল ৪৭ রানে।
আইপিএল ফাইনালে রবিবার চেন্নাইতে টসে হেরে যায় কেকেআর অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। বরং টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন হায়দরাবাদ দলের নেতা প্যাট কামিন্স। স্টার্কদের বোলিং দেখে মনে হচ্ছে লাল মাটির পিচে আগে বোলিং করা তাঁদের কাছে আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
দুটি দলের মধ্যে মোট ২৭ বার দেখা হয়েছে। কলকাতা অনেক এগিয়ে, মোট ১৮ বার জিতেছে। হায়দরাবাদ সেখানে জিতেছে মাত্র নয়বার। চারমিনার সিটির বিরুদ্ধে কলকাতা এর আগে সর্বোচ্চ রান তুলেছে ২০৮ রান, সেখানে হায়দরাবাদের সর্বোচ্চ রান ছিল ২২৮ রান।
চেন্নাইতে দুটি দলের রেকর্ড ভাল নয়। হায়দরাবাদ চিপক স্টেডিয়ামে মাত্র দুটি ম্যাচে জিতেছে, নাইটরা সেখানে চারটি ম্যাচ জিতেছে। দুটি দল এর আগে চেন্নাইতে একবারই মুখোমুখি হয়েছে। ২০১২ সালের সেই ম্যাচে দশ রানে জেতে কেকেআর। চলতি লিগে তিনবার সাক্ষাৎ ঘটেছে শ্রেয়স আইয়ার ও প্যাট কামিন্সদের। তারমধ্যে দু্’বার জেতে কেকেআর ও একবার জিতেছে হায়দরাবাদ।
রবিবার ম্যাচটি হবে লাল মাটির পিচে। এই পিচেই ঝলসে উঠলেন নাইট বোলাররা।