
ট্রিস্টান স্টাবস
শেষ আপডেট: 16 April 2025 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হকি পরিশ্রমের খেলা। মজারও৷ কিন্তু তাতে অর্থ নেই। কেরিয়ার গড়াও সমস্যার। তাই ছেলের হাতে হকি স্টিক তুলে দিয়েও পরে ব্যাট বেছে নিতে বলেন ক্রিস স্টাবস৷ বাবার উপদেশ না শুনলে আজ হয়তো রিভার্স সুইপ, সুইচ হিটের বদলে ট্রিস্টান স্টাবসকে পুশ পাস, ড্র্যাগ ফ্লিক করতে দেখা যেত।
দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় চলতি আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে নামছেন। আর নেমেই ঝড় তুলেছেন। পাওয়ার হিটার, পিঞ্চ হিটার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু এই সম্মান বা সাফল্যের আড়ালে রয়েছেন একজন—ক্রিস স্টাবস। যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হকি খেলোয়াড়দের অন্যতম। জাতীয় দলে সুযোগ পাননি ঠিকই। কিন্তু ঘরোয়া আঙিনায় তিনি পরিচিত মুখ। প্রাক্তন প্রভিন্সিয়াল খেলোয়াড় ক্রিস স্টাবস নয়ের দশকে ভারতের বিরুদ্ধেও মাঠে নেমেছেন। ১৯৯২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায় ভারতীয় হকি টিম। যারা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে সাদার্ন ট্রান্সভালের বিরুদ্ধে নেমেছিল। ওই ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় লাভ করে ভারত৷ যেখানে বিজিত শিবিরের সদস্য ছিলেন ক্রিস স্টাবস।
কিন্তু সেই ফলাফল নয়। হকির দুনিয়া সার্বিকভাবেই এতটা জটিল এবং সমস্যার, সেই কারণে ছেলে ট্রিস্টানকে ক্রিকেট বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন ক্রিস। আর্থিক নিশ্চয়তা একটা কারণ। দ্বিতীয় কারণ অবশ্যই খেলা হিসেবে ক্রিকেটের বিশ্বব্যাপী সাফল্য ও জনপ্রিয়তা অর্জন৷
যদিও ব্যাটের আগে ছেলের হাতে হকি স্টিক তুলে দেন তিনি। শক্তি অর্জন, টাইমিংয়ে দখল, কন্ট্রোলে অধিকার—এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে ক্রিসের পরামর্শ ছিল: আগে স্টিকে হাত পাকাও৷ তারপর বাইশ গজে নামবে৷ গায়ে জোর আসুক, হাত-চোখের সম্পর্ক (হ্যান্ড-আই কোঅর্ডিনেশন) আরও স্বচ্ছন্দ হোক, তারপর হকি ছেড়ে ক্রিকেটে সরে যাবে।
তখনও টি-২০-র রমরমা শুরু হয়নি। কিন্তু ক্রিস স্টাবস যেন অনাগত ভবিষ্যতের ছবি দেখতে পেয়েছিলেন। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাট, যেখানে শক্তি সার, শক্তিই সত্য, সেখানে ছেলেবেলায় হকিতে হাত পাকানোর সুফল পাচ্ছেন ট্রিস্টান স্টাবস। পুল, সুইপ, রিভার্স সুইপ, স্কুপ, প্যাডল সুইপ, স্ট্রেট ড্রাইভ—সবেতেই সমান পারদর্শী দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা।
আর এর নেপথ্যে হকির ছায়াপাত দেখছেন ক্রিস। তাঁর কথায়, ‘দুটো খেলাই ওকে সমানভাবে সাহায্য করেছে৷ ট্রিস্টানের বেশ কিছু সুইপ শট হকির রিভার্স স্টিকের অনুরূপ। রিভার্স সুইপও তাই৷ আমি খেলতাম যখন, তখন ও মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে সবকিছু খুঁটিয়ে লক্ষ্য করত। তারপর ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠল একহাতে হকি স্টিক, আরেক হাতে বল নিয়ে৷’