
ধোনি ও কারেন
শেষ আপডেট: 23 March 2025 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স বিয়াল্লিশ পেরিয়ে তেতল্লিশ ছুঁয়েছে। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন পাঁচ বছর আগে। চেন্নাই ক্যাম্পে (CSK) যোগ দেওয়ার আগে ধারাবাহিকভাবে প্র্যাকটিসেও ছিলেন না। তবু রবিবার আইপিএলের মহারণে (IPL 2025) নামার আগে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে (Mahendra Singh Dhoni) দেখে বোঝার উপায় নেই, এই নিয়ে আঠারোতম বার ক্রিকেটের মহাযুদ্ধের সৈনিক তিনি।
বিদ্রোহী। কিন্তু রণক্লান্ত নন। যুদ্ধক্ষেত্র যাই হোক না কেন, তার কদর ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সবসময় দিতে প্রস্তুত। গত বছরই নেতৃত্বের দায়িত্ব চলে গিয়েছিল তরুণ তারকা ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের হাতে। কিন্তু উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে কিংবা বাইশ গজে ব্যাট হাতে—ময়দানে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত মহেন্দ্র সিং ধোনি৷
আর সর্বস্ব দেওয়ার প্রস্তুতিটা ঠিক কীরকম? ম্যাচের আগে একটি সাক্ষাৎকারে সেই নিয়েই চোখে-দেখা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন ইংরেজ ব্যাটসম্যান সাম কারেন। এর আগে ধোনির অধিনায়কত্বে দু'বার আইপিএল জিতেছেন। ফলে তাঁর অধ্যবসায়, সংযম আর খিদে নিয়ে এতটুকু সংশয় ছিল না। কিন্তু এবার যেটা তাঁকে মুগ্ধ করেছে, তা হচ্ছে মানসিক জোর।
ইংল্যান্ড ব্যাটার স্বম্ভিত, বিস্মিত হয়েছেন ধোনির ম্যাচ প্র্যাকটিস দেখে। সারাদিনের নেট সেশন যেমন চলার তেমনটা তো চলেইছে। রবিবারের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে শুক্রবার নাকি রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে মগ্ন ছিলেন সিএসকে তারকা। কারেন বলেন, ‘সেদিন অত রাত পর্যন্ত এমস আর জাদেজার সঙ্গে ব্যাট করছিলাম৷ আর ভাবছিলাম: দুনিয়ার কোথায় এমনটা দেখা যায়? স্টেডিয়ামের আলো জ্বালানো ছিল। আর আমরা চার-ছক্কা হাঁকিয়ে যাচ্ছিলাম।’
মাঠের ধোনির সংহারক মূর্তি না হয় বোঝা গেল। কিন্তু অন্দরমহলের এমসডি? আর ‘ক্যাপ্টেন’ নন যদিও। কিন্তু এখনও কি আগের মতোই ‘কুল’? কারেনের জবাব: হ্যাঁ, আগের মতোই নিজের ক্যারিশমায় সতীর্থদের মুগ্ধ রাখেন ধোনি। হোটেলের রুম অবারিত দ্বার। সকলে এসে কথা বলে আর বলে শান্তি পায়, আরাম অনুভব করে। ইংরেজ খেলোয়াড় বলেছেন, ‘দলে অনেক স্থানীয় ক্রিকেটার রয়েছে। তারা শুধু বসে থাকে আর এমএসের খেলা দেখে। এটাই লোকটার প্রতিভা। ওর সঙ্গে বসে গল্প করা খুবই সহজ।’
কেন সহজ? সাম কারেনের বিশ্লেষণ: ধোনি কখনওই ভয় পান না। তাঁর আচরণে রয়েছে প্রশান্তি। যা তৈরি হয়েছে প্রচুর বড় ম্যাচ ও বড় মুহূর্তের অভিজ্ঞতার ফলে। তাই বলে অনুভূতি নেই, এমনটা নয়৷ এখনও চোখেমুখের অভিব্যক্তিতে তা ধরা পড়ে। কিন্তু কোনওকিছুই প্রবলভাবে প্রকাশ করেন না ধোনি। লুকিয়ে রাখেন, আড়াল করেন।
আর এই কারণেই হোটেল রুমের দরজা থাকে খোলা। কখনও অনুজরা এসে টিপস নিয়ে যান। কখনও সতীর্থরা বসে ফিফা খেলেন। ভক্তপরিবৃত হওয়ার ভয়ে হোটেল চত্বর না ছাড়লেও একেবারে অন্দরমহলের ধোনি এতটাই খোলামেলা, স্বাধীন। জানিয়েছেন কারেন।