Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দ

পাওয়া গেল না বাচ্চার খাবার, তখন আর এক টেনশন

শ্রীতপা নন্দী (sreetapa14nandy@gmail.com) লকডাউন ব্যাপারটা বেশ নতুন আমার কাছে। ২০১৬-তে নোটবন্দি দেখেছিলাম আর ২০২০-তে গৃহবন্দি। সে যাই হোক, সাম্প্রতিক বিশ্বের যা অবস্থা, তাতে এটাই একমাত্র পথ বেঁচে থাকার বা ভাল থাকার। স্কুলে পড়াই, তাই এক অর্

পাওয়া গেল না বাচ্চার খাবার, তখন আর এক টেনশন

শেষ আপডেট: 1 April 2020 12:48

শ্রীতপা নন্দী (sreetapa14nandy@gmail.com) লকডাউন ব্যাপারটা বেশ নতুন আমার কাছে। ২০১৬-তে নোটবন্দি দেখেছিলাম আর ২০২০-তে গৃহবন্দি। সে যাই হোক, সাম্প্রতিক বিশ্বের যা অবস্থা, তাতে এটাই একমাত্র পথ বেঁচে থাকার বা ভাল থাকার। স্কুলে পড়াই, তাই এক অর্থে ভালই হল। গোটা সময়টা সংসারে দিতে পারছি। স্কুলে ইলেভেনের বাৎসরিক পরীক্ষা চলছিল, যখন হঠাৎ করেই বলা হল স্কুলে আসতে হবে না, যার যেদিন পরীক্ষার গার্ড দেওয়ার থাকবে, তিনি সেদিন আসবেন। সত্যি বলতে কী, ব্যাপারটার গুরুত্ব তখনও বুঝিনি। কিন্তু যখন লকডাউন শুরু হল তখন খুবই ভয় লাগতে শুরু করল। বাড়িতে ছোট্ট বাচ্চা, বয়স্ক লোকজন... কী যে রোগ, কী তার চিকিৎসা... সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যেতে লাগল। প্রথমেই মনে হল, জরুরি জিনিসগুলো কেনা দরকার। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। পাওয়া গেল না বাচ্চার খাবার। তখন আর এক টেনশন (যদিও পরে যোগাড় হয়েছে)। মোটামুটি ২৬ মার্চ থেকে শুরু হল গৃহবন্দি জীবন। সকালে উঠে প্রথম কাজ টিভিতে দেখা, কাল কতজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন আর আজ কত হলেন। সারা দেশ, তারপর রাজ্যে। আর কতজন মারা গেলেন। মাঝেমাঝে মনে হয়, না জানলেই ভাল, কিন্তু অনুসন্ধিৎসা... বড় বালাই। কাজের মাসির ছুটি, তাই যা কিছু করতে হবে নিজেকেই। তাই শুরু রান্না। আমাদের বাড়িতে নিজেরাই নিয়ম করে নিয়েছি, একদিন আমি আর একদিন আমার স্বামী রান্না ও অন্যান্য কাজ করবে। সেইমতো লেগে গেলাম। যে রান্না করবে বাসনটাও সেই মাজবে। এরপর তো মেয়ের ফরমাশ অনুযায়ী ব্রেকফাস্ট তৈরি করা হল, তারপর তাকে খাওয়ানো। তারপর বাকি কাজ করে দুপুরের খাওয়া। মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের মতো লেখাপড়া করে, মোবাইল বা টিভি দেখে দুপুর পার। বিকালে আবার মেয়ের সঙ্গে একটু খেলাধুলা আর রাতে রান্না। এভাবেই কাটছে দিনগুলো। তবে একটা কথা ঠিক, মেয়ে না থাকলে এই দিনগুলো ঘরে বসে কাটানো খুব চাপের হত। গঙ্গাসাগরে থাকি আমি, মোটামুটি গ্রামীণ পরিবেশ। তবে প্রশাসন খুবই তৎপর। লোকজন খুব একটা বেরোন না, যদিও কিছু লোককে কোনওভাবেই ঘরে আটকে রাখা যায় না। পুলিশ সারাক্ষণ প্রচার চালাচ্ছে করোনাভাইরাস সম্পর্কে। আর সবচেয়ে ভাল যেটা দেখলাম, সেটা পরিবেশের পরিবর্তন। গাছগুলো যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে এই ক’দিনে। লকডাউনে হয়তো অনেক সমস্যা হয়েছে, হয়তো কেন, সত্যিই তো হয়েছে, তবে এই ক’দিনে যেন নাগরিকত্ব, ধর্ম, রাজনীতি সবকিছু কোথায় হারিয়ে গিয়েছে। সবাই এক হয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এটাই ভারতবর্ষ, যা এতদিন ধর্ম, রাজনীতির তলায় চাপা পড়ে গিয়েছিল। তবে এটাই আশা যে, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভিতে দেখব আমাদের দেশ করোনা-মুক্ত। কোনও লোক আক্রান্ত হননি বা কেউ মারা যাননি। সেইদিন খুব শান্তি পাব। এখানে আর একটা কথা বলার। সম্প্রতি ফেসবুকে হাজার রকমের চ্যালেঞ্জ বেরিয়েছে, ব্যাপারগুলো ভালই। কিন্তু কেমন যেন একঘেয়ে। অবশ্য এগুলো করেই হয়তো লোকজনের সময় কাটে। তবে লকডাউনের সঙ্গে যেন এগুলোরও পরিসমাপ্তি ঘটে, সেটাই আশা করব।

সর্বজ্ঞানী কিছু মানুষের জন্য সব চেষ্টা বিফলে যেতে বসেছে

মৃন্ময় পান (mrinmoypan28@gmail.com) মারণ ভাইরাস 'কোভিড-১৯' বা 'করোনা' সতর্কতায় দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে। এইমুহূর্তে সারা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'-এর তরফে করোনা সংক্রমণকে 'বিশ্ব অতিমারী' ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু পেশার কারণে 'হোম কোয়ারেন্টাইনে' থাকার সুযোগ আমাদের নেই। কী দেখছি? এই প্রশ্নের উত্তরে এইমুহূর্তে বাঁকুড়ার চিত্রটা আর পাঁচটা জায়গার ব্যতিক্রম নয়। 'করোনা' সংক্রমণ ঠেকাতে 'লকডাউনে'র প্রথম দু'দিন রাস্তাঘাট ছিল একেবারে শুনশান। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছিলেন না। তা সে পুলিশের 'লাঠৌষধি'র ভয়েই হোক বা করোনা-আতঙ্ক যাই হোক না কেন! ওই দিনগুলিতে প্রায় সর্বস্তরের মানুষ একপ্রকার গৃহবন্দি ছিলেন এটাই বড় কথা। কিন্তু যেই পুলিশের বলপ্রয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হল, অমনি বাঁকুড়া যেন ফের তার পুরনো ছন্দে ফিরতে শুরু করল। পাড়ার মোড়ে মোড়ে জটলা, দরকারে অদরকারে বাইরে বেরিয়ে পড়ার ছবি গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই। আবার অনেক জায়গায় 'ত্রাণ বিলি'র নামে সোশ্যাল ডিস্টান্সিং বা সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না এমন ছবিরও দেখা মিলছে আকছার। যা কখনওই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে করোনা সংক্রমণ ঠেকানো নিয়ে তৎপরতার অভাব নেই ঠিকই, কিন্তু সর্বজ্ঞানী কিছু মানুষের জন্য সব চেষ্টা বিফলে যেতে বসেছে। কী ভাবছি! আমাদের জেলায় 'করোনা' সংক্রমণ যদি ঠেকাতে হয়, শুধুমাত্র নিয়ম করে জনসচেতনতামূলক প্রচারে ফল কখনওই মিলবে না। এইমুহূর্তে মানুষকে হোম কোয়ারেন্টাইনে বন্দি করতে হলে এক ও একমাত্র ওষুধ পুলিশের লাঠি আর তা ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে। তাতেও কাজ না হলে ১৪৪ ধারা জারি কিংবা প্রয়োজনে সেনা নামাতে হবে। এই পথ ছাড়া করোনার সংক্রমণ ঠেকানো বোধহয় সম্ভব নয়। আগামী দিনগুলোতে কী হবে আমাদের জানা নেই। কারণ এ নিয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা আমাদের কারওরই নেই। কী ঘটবে বা কী ঘটতে চলেছে উত্তর দেবে সময়। এখন সেদিকেই তাকিয়ে আমরা সবাই।

```