
শেষ আপডেট: 27 November 2023 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর সুবিশাল হিমবাহ আয়তনে মুম্বইয়ের প্রায় ৬ গুণ দিশা হারিয়ে ভাসতে ভাসতে চলেছে। আন্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অজানার পথে চলেছে হিমবাহ এ২৩এ (A23a)। ভাঙনও নাকি শুরু হয়েছে তাতে। এই হিমবাহে হাজার হাজার পেঙ্গুইন, সিল মাছ, সামুদ্রিক পাখিদের বাস। হিমবাহ ভেঙে বরফ জলে ভাসতে শুরু করায় আতঙ্কে বরফের দেশে প্রাণীরাও। বাস্তহারা হচ্ছে পেঙ্গুইনরা। মৃত্যুও হচ্ছে অনেকের।
জলবায়ু বদলের ভয়ঙ্কর প্রভাব দেখা দিচ্ছে আন্টার্কটিকায়। নাসা ইতিম্যধ্যেই বিপদসঙ্কেত দিয়েছে। উপগ্রহ চিত্র দেখিয়েছে, মেরু প্রদেশের সাগরগুলিতে পুরু বরফের স্তর জমে থাকত। বিশ্ব উষ্ণায়ণের কারণে সেই বরফের স্তর গলে গিয়ে মাত্র ১৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে। ১৯৮০ সালের ছবিটা যেমন ছিল, ২০২২ সাল থেকে তা পুরোটাই পাল্টে গেছে। দু'বছর আগেই দেখা গিয়েছিল, দক্ষিণ মেরুর উত্তর প্রান্তের ‘এসপ্যারেঞ্জা বেসে’র তাপমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে ১৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইটের মানদণ্ডে ৬৪.৯৪ ডিগ্রি। আন্টার্কটিকার ইতিহাসে যা একটি রেকর্ড।
এ২৩এ হিমবাহটির বিস্তৃতি কম করেও চার হাজার বর্গ কিলোমিটার। আকারে আয়তনে মুম্বইয়ের প্রায় ৬ গুণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই হিমবাহেও ভাঙন ধরেছে। আচমকাই বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাসতে শুরু করেছে সেটি। এই সুবিশাল হিমবাহ গলতে শুরু করলে বিপদ হবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। হিমবাহ গলনের ফলে জলস্তর অনেকটাই বাড়বে।
আন্টার্কটিকার বরফের বিশাল বিশাল পুরু চাঙড়গুলির ইতিমধ্য়েই ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙলেই দ্রুত বরফ গলতে শুরু করবে আন্টার্কটিকার। চিড় ধরতে শুরু করেছে আন্টার্কটিকার বিশাল বিশাল গ্লেসিয়ারগুলিতেও। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, হিমবাহ যে হারে গলতে শুরু করেছে তার পরিণতিতে আর ১০০ বছরে অন্তত ১০ ফুট উঠে আসতে পারে সমুদ্রের জল-স্তর। তাতে বহু দেশের বহু শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
আন্টার্কটিকার ‘নর্থ রিফ্ট’ নিয়ে বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদদের চিন্তা ছিল আগেই। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে আন্টর্কটিকায় যেভাবে হিমবাহ ভেঙে গলে যাচ্ছে তাতে ঘুম উড়েছে বিশ্বের তাবড় পরিবেশবিদদের। এ২৩এ হিমবাহটি ভাসতে শুরু করায় চিন্তার পারদ কয়েক ডিগ্রি চড়েছে। পৃথিবীর তাপ বাড়ছে, মেরুপ্রদেশে বরফ গলছে, সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে, জলবায়ুর বদল আসন্ন সর্বনাশের খাঁড়া ঝুলিয়েই রেখেছে। তার মধ্যেই নর্থ রিফ্টের পাহাড়প্রমাণ বিশাল বরফের চাঁই ভেঙে পড়াকে মোটেই ভাল চোখে দেখছেন না পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।
আন্টার্কটিকার বিশাল হিমবাহ গলেছিল সেই ২০১৭ সালে। হিমবাহ থেকে খসে পড়া দানবাকৃতি হিমশৈল ভাসতে ভাসতে এখন প্রায় সাউথ জর্জিয়া দ্বীপের কাছে চলে গিয়েছিল। দ্বীপের ওই অংশেই পেঙ্গুইন, শিলদের কলোনি ছিল। সেই হিমবাহটিও ভাসতে ভাসতে কোথাও ধাক্কা মারলে তার যে কী পরিণতি হবে সে নিয়ে এখনও চিন্তায় বিজ্ঞানীরা। তার মধ্যেই এই উটকো বিপদ এসে হাজির হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা অঙ্ক কষে দেখেছেন, ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল অবধি প্রতি বছরে ৮০ হাজার কোটি টন করে বরফ গলেছে। ২০০০ সালের পর থেকে উষ্ণায়ণের প্রকোপ বাড়ায় আরও বেশি হারে বরফ গলতে শুরু করেছে পৃথিবীতে। ২০১৭ সাল অবধি বছরে গড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টন করে বরফ গলেছে। দেখা গেছে, ২০১৯ সালের পর থেকে প্রতি মিনিটে দশ লক্ষ টন করে বরফ গলছে মেরু প্রদেশে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি আন্টার্কটিকার হিমবাহ সম্পূর্ণ গলে যায়, তাতে গোটা পৃথিবীতে সমুদ্রের জলস্তর গড়ে ২৩ ফুট বাড়বে।