
প্রায় তিনশ-র কাছাকাছি আসন পেল এনডিএ জোট
শেষ আপডেট: 5 June 2024 01:00
শঙ্খদীপ দাস
মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের ভোট ফলাফলে প্রায় তিনশ-র কাছাকাছি আসন পেল এনডিএ জোট। স্কোর কার্ডে চোখ রাখলেই বোঝা যাবে কেন্দ্রে ফের তাঁরাই সরকার গড়তে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যাকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ হল বৃহত্তম গণতন্ত্রের জয়।
কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হল, এনডিএ জিতলেও কেন জয়ীর মতো ভাষণ দিচ্ছেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবরা। তাঁরা কেন এত উচ্ছ্বসিত। আর বিজেপি কেন এত মনমরা! আর কেনই বা সোশাল মিডিয়া জুড়ে এর পরেও মোদী ও বিজেপিকে উদ্দেশ করে টিকা টিপ্পনির সুনামি বইছে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশের মতে, এর কারণ পরিষ্কার। এবং এর কারণ নরেন্দ্র মোদীই। তিনি দেশ ও দুনিয়ার সামনে নিজেকে অজেয় বলে তুলে ধরেছিলেন। মোদী হ্যায় তো মুনকিম হ্যায়। মোদীকে হারানো যায় না। মোদী হারায়। তিনি হেলায় বলে দিতে পারে ‘ইস বার চারশ পার’। অর্থাৎ ভাবটা এমন যে অনন্ত কাল ধরে এখন দেশ শাসন করে যাবেন তিনি তথা বিজেপি।
তাই এই সব ঢক্কা নিনাদের চেয়ে পারফরমেন্স কম হলেই মনে হচ্ছে, এটা মোদীর পরাজয়। এটা বিজেপির বেইজ্জতি। কারণ, বিজেপি দলটাই এখন নরেন্দ্র মোদীতে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। আলাদা করে যেন তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। মোদী মানে বিজেপি, আর বিজেপি মানেই মোদী। দল ও সরকার দুটোই চালান মোদী-শাহ।
অনেকের মতে, বিরোধীদের উচ্ছ্বাসের আরও কারণ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দেশে প্রায় ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তা হল ইডি, সিবিআইকে দিয়ে কখন কাকে গ্রেফতার করে নেবে সরকার। বিশেষ করে লোকসভা ভোটের আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করায় আলোড়ন পড়ে গেছিল বিরোধী মহলে। তার আগে অশনিসংকেত দেখেছিলেন বিরোধীরা। আদালতের রায় ঘোষণা হতেই যেভাবে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাতে উৎকণ্ঠা চাড়িয়ে গিয়েছিল বিরোধীদের মধ্যে।
বিরোধীরা এখন বুঝতে পারছেন দেশে এক দলীয় শাসনের অবসান ঘটায় শুধু নরেন্দ্র মোদীর কথা আর চলবে না। তাঁকেও নির্ভরশীল থাকতে হবে শরিক দলের উপর। এমন সব শরিক যাঁরা বেশ পিচ্ছিল। তাঁদের উচ্ছাস সেই কারণেই।
সমাজ মাধ্যমে উচ্ছ্বাসের কারণও পরিষ্কার। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের মনে হচ্ছিল, মোদী মিথ্যাচার করছেন। মোদী ভণ্ড রাজনীতিক। আজ মনে হল, বলবেন, ‘ওরা মায়েদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে নেবে’। ‘ইন্ডিয়া ক্ষমতায় এলে, যাদের বেশি বাচ্চা হয়, তাদের সব সম্পত্তি দিয়ে দেবে’। আবার পরদিনই সুযোগ বুঝে বলবেন,‘আমি কখনওই হিন্দু মুসলমান করি না। জীবনে কখনও করিনি’। রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য তিনি কখনও ৫৬ ইঞ্চি ছাতিতে হাত রেখে জানিয়ে দেন, না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা। আবার সেই তিনিই দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের মালা পরিয়ে ঘরে তোলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেকেই মনে করেন মোদী দেশের মানুষকে টেকেন ফর গ্রান্টেড ধরে নিয়েছিলেন। তাই সময় ও সুযোগ খুঁজছিলেন অনেকেই। মোদীকে কিছুটা দুর্বল দেখাতেই মঙ্গলবার থেকে আর কোনও রাখঢাক রাখলেন না তাঁরা। আগামী দিনে এঁদের মুখ বন্ধ রাখা কঠিন শুধু হবে না, না মুনকিম হবে।