শেষ আপডেট: 7 November 2020 09:58
অতিরিক্ত ওজন কমানোর প্রসঙ্গ এলে প্রথমেই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিতে বলেন ডায়েটেশিয়ানরা। বেশি মাত্রার কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেলে ওজন বাড়ে তাড়াতাড়ি। সেক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার কমিয়ে, ফ্যাট আর প্রোটিন জাতীয় খাবারের উপর জোর দিতে বলেন তাঁরা। হাই ফ্যাট ও হাই প্রোটিন দুই ধরনের লো-কার্ব ডায়েটেই কিন্তু ওজন কমে। অনেকেরই এই বিষয়ে সঠিক ধারণা নেই। তাদের জন্য রইলো বিশেষজ্ঞদের মত -
লো-কার্ব ডায়েট কী?
প্রতিদিন কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থেকে আমরা বেশিমাত্রায় ক্যালোরি পাই। আমাদের সাধারণ ডায়েটে ৫০ শতাংশের বেশি খাবার কার্বোহাইড্রেটযুক্ত। ওজন কমাতে গেলে যেহেতু কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলতে হয়, তাই ডায়েটে ফ্যাট আর প্রোটিনযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হয়। এটাই লো-কার্ব ডায়েট।
হাই ফ্যাট লো-কার্ব ডায়েট :
কিটো ডায়েট হল হাই ফ্যাট লো-কার্ব ডায়েটের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রাখা হয়। অন্যদিকে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ ফ্যাট জাতীয় খাবার এবং বাকিটা প্রোটিনের উপর জোর দেওয়া হয়। ফ্যাট জাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীরে কিটোসিস ফেজ শুরু হয়। এতে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট বার্ন করে শক্তি জোগায়।
হাই প্রোটিন লো-কার্ব ডায়েট :
জোন এবং সাউথ বিচ ডায়েট হল হাই প্রোটিন লো-কার্ব ডায়েট। এইক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ রাখা হয়। বাকি ক্যালোরি ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে শরীর পায়।
সমীক্ষায় জানা গেছে ওজন কমাতে দুই ধরনের ডায়েটই কার্যকারী। পরীক্ষা করে দেখা গেছে ঠিকমতো ডায়েট মেইনটেন করলে চটজলদি ওজন কমে, এমনকি শরীরের ব্লাডপ্রেসার, ব্লাডসুগার, ইনসুলিন লেভেলের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।
তুলনামূলক ভাবে বিচার করে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন হাই ফ্যাট লো-কার্ব ডায়েটে বেশিদিন না থাকাই ভাল। ওজন কমাতে সাহায্য করলেও শরীরের উপর খানিকটা প্রভাব ফেলে। এই ডায়েটে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ফল সবজি বাদ পড়ে যায়। দীর্ঘদিন এগুলো না খেলে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। শরীরের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য, প্রয়োজনীয় খাবার থেকে যেন কেউ বেশিদিন দূরে না থাকেন, সেই পরামর্শই দিচ্ছেন ডাক্তাররা।