
শেষ আপডেট: 18 July 2020 18:30
প্ল্যান্টার ওয়ার্ট (Planter Wart)—মাংসল আঁচিল পায়ের পাতা, গোড়ালিতে দেখা যায়। রঙ অনেকটা হাল্কা হয়। কখনও হাল্কা বাদামি রঙের এমন আঁচিলও দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে ত্বকের ওই অংশে রক্ত জমাট বেঁধে আঁচিলের আকার বড় হয়ে ওঠে। অনেকটা অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্ল্যান্টার ওয়ার্ট।
জেনিটাল ওয়ার্ট—রক্তের মতো লাল রঙ বা হাল্কা গোলাপি রঙের হয়। যৌনাঙ্গ বা তার আশপাশে এই ধরনের আঁচিল বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচপিভি ভাইরাসের সংক্রমণে এই ধরনের আঁচিল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সাধারণত যন্ত্রণাহীন হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এই আঁচিলের চারপাশে র্যাশ, চুলকানি হতে দেখা যায়। রক্ত জমাট বাঁধে অনেকের ক্ষেত্রে।
ফ্ল্যাট ওয়ার্ট- এই ধরনের আঁচিল কমবয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ছোট ছোট লালচে-বাদামি মাংস খণ্ড মুখে, হাতে, হাতের আঙুলে বা পায়ে দেখা যায়। মহিলাদেরই এই ধরনের আঁচিল বেশি দেখা দেয়।
গাদা গাদা ওষুধ বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়েই ইউটিউব থেকে বের করা থেরাপি কাজে লাগাতে গিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, আঁচিলকে ঘায়েল করা সম্ভব। তার জন্য অনেক ঘরোয়া টোটকা আছে। থেরাপিও আছে।
ক্রায়োথেরাপি—আঁচিলে যদি ব্যথা থাকে বা জ্বালা-চুলকানি থাকে তাহলে এই পদ্ধতি উপযোগী। ক্রায়োথেরাপিতে আঁচিলকে জমিয়ে দেওয়া হয় তরল নাইট্রোজেন দিয়ে। ফলে ত্বকের ওই অংশে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না বা কোনওরকম প্রদাহ হয় না। এই থেরাপি একমাত্র বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তারের কাছে গিয়েই করা উচিত।
অ্যাপল সিডার ভিনিগার ও অ্যালোভেরা—অ্যাপল সিডার ভিনিগারে যে অ্যাসিড থাকে সেটা প্রাকৃতিভাবে আঁচিলকে পুড়িয়ে দেয়। ভিনিগারে তুলো ভিজিয়ে আঁচিলের উপর চেপে রাখলে ফল মেলে। পাঁচ-সাত দিন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে। ত্বকের যে কোনও সমস্যায় অ্যালোভেরা উপযোগী। অ্যালোভেরার পাতা কেটে ভেতরের থকথকে জেলিটা আঁচিল বা জরুলের উপর লাগিয়ে রাখলে তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালোভেরার ম্যালিক অ্যাসিডে আঁচিল নষ্ট হয়ে যাবে।
রসুনের অ্যালিসিন--বিশেষজ্ঞরা বলেন রসুনের অ্যালিসিন উপাদান আঁচিল সারাতে কাজে আসে। কারণ অ্যালিসিনের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ আছে। রসুন থেঁতো করে তার রস লাগালে অনেক সময়েই উপকার পাওয়া যায়। যে কোনও রকম প্রদাহ কমাতে কাজে আসে অ্যালিসিন। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণও আছে।
স্যালিসাইলিক অ্যাসিড—আঁচিল বা জরুলের উপরে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড লাগিয়ে রাখলেও উপকার মেলে। জেল, লোশন বা প্যাড যাতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আছে, ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ত্বকের ধরন বুঝে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
ওষুধ—বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ ভেতর থেকে রুখতে ব্লেওমাইসিন ইঞ্জেকশন দেন ডাক্তাররা। যাদের আঁচিলের সমস্যা বেশি বা এই কারণে ত্বকে কোনওরকম সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাদের এই থেরাপি করা হয়। তাছাড়া ইমিকুইমোড নামে ইমিউনোথেরাপি ড্রাগ ব্যবহার করা যায়। এই ওষুধ ভেতর থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণ আটকায়। জেনিটাল ওয়ার্টের সমস্যা বেশি হলে এই থেরাপি করেন ডাক্তাররা।
লেজার থেরাপি—সারা শরীরে যদি আঁচিল ছড়িয়ে পড়ে তাহলে লেজার ট্রিটমেন্টে কৃত্রিমভাবে আঁচিল পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলা যায়। তবে এই থেরাপি ডাক্তারের কাছে ছাড়া সম্ভব নয়।